রাজধানী
শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ
রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখা ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ।
টানা ৩২ ঘণ্টা মোড় অবরোধের পর শুক্রবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্দোলনকারীদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দেয় এবং তাদের স্থাপন করা মঞ্চটিও অপসারণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে একটি পক্ষ ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছিল। শুক্রবার বিকেলে আরেকটি পক্ষ এসে ওই অবরোধের বিরোধিতা করে এবং নিজেদের প্রকৃত ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে। তাদের দাবি, প্রকৃত আন্দোলনকারীরা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে না। শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। এই বিরোধ থেকেই শুরু হয় বাক-বিতণ্ডা। পরবর্তীতে সংঘাত এড়াতে পুলিশ উভয় পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
অবরোধের ফলে শুক্রবারও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে মৎস্য ভবন, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড়, কাটাবন, ও শাহবাগ থানার সামনের সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। এতে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একাধিক মোটরসাইকেল চালক জানান, প্রতিদিন এই ধরনের আন্দোলনের কারণে তাদের রাইড শেয়ারের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে তিন গুণ সময় লাগছে। তারা বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সাথে আমরাও একাত্ম, কিন্তু এখন দুর্ভোগ আমাদেরই বেশি।”
অবরোধকারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল— ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের ‘শহীদ’ এবং ‘যোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, পরিবারগুলোর জন্য আজীবন সম্মানজনক ভাতা, দায়ীদের বিচার এবং একটি স্বাধীন ‘সত্য ও ন্যায় কমিশন’ গঠন।
পুলিশ জানিয়েছে, শাহবাগ মোড় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা এবং দীর্ঘসময় অবরোধের ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। সে কারণে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যদিও আপাতত অবরোধকারীরা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। আন্দোলনকারীদের মতে, তাদের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি—তারা স্বীকৃতি ও ন্যায়ের দাবিতে তাদের লড়াই চালিয়ে যাবেন।