রাজধানী
মহাখালীতে মাদক সেবন করিয়ে বাড়িতেই দিনের পর দিন কিশোরীকে ধর্ষণ
রাজধানীর মহাখালীতে ১৩ বছরের কিশোরী সিমির আত্মহত্যার ঘটনায় সামনে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, জোর করে মাদক সেবন করিয়ে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তী সময়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল সিমিকে। এ ঘটনায় সিমিদের বাসায় সাবলেট থাকা সাইদুর ও টুম্পা দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে সিমি, তার মা ও এক স্বজন বনানী থানায় গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ তাদের। যদিও বনানী থানা পুলিশের দাবি, সিমির মৃত্যুর আগে এমন কোনো অভিযোগ নিয়ে তারা থানায় আসেনি।
মহাখালীর একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় মায়ের সঙ্গে থাকত সিমি। গত এপ্রিল মাসে বাড়ির ম্যানেজারের মাধ্যমে দুই সন্তানসহ ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠেন সাইদুর ও টুম্পা দম্পতি। পরিবারের ভাষ্য, তারা বাসায় ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটতে থাকে। পরে গত ১ মে তারা বাসা ছেড়ে চলে যান।
সিমির মা জানান, অভিযুক্ত দম্পতি বাসা ছাড়ার পর মেয়ের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তিনি। একই সময়ে বাসা থেকে টাকা হারানোর ঘটনাও ঘটতে থাকে। পরে স্বজনদের চাপের মুখে সিমি জানায়, তাকে হুমকি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
সিমির মায়ের দাবি, মেয়েকে নিয়ে বনানী থানায় গেলে সে সেখানে নির্যাতনের ঘটনা বিস্তারিত জানায়। পুলিশ কর্মকর্তারা তার বক্তব্য শোনেন এবং অভিযুক্তের ছবি দেখানোর পর পরদিন থানায় আসতে বলেন। তবে পরদিন ফোন করে যোগাযোগ করলে তাদের থানায় যেতে নিষেধ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে তারা জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর আগে সিমির থানায় উপস্থিতি ও মৌখিক অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।
এদিকে, বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে সাইদুর ও টুম্পা দম্পতির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই না করেই সাইদুরকে সাবলেট হিসেবে বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন বাড়ির ম্যানেজার।
গত ১৫ জুলাই সিমির আত্মহত্যার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে তার মৃত্যুর কারণ ও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখনো সেই প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।