রাজধানী
রাজধানীর মিরপুরে সরকারি আবাসনের লিফট ছিঁড়ে আহত ৩
রাজধানীর মিরপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের লিফট ছিঁড়ে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাবা ও তার আট বছর বয়সী ছেলেও রয়েছে। তাদের উদ্ধার করে আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে মিরপুরের পাইকপাড়া আনসার ক্যাম্পের পশ্চিম পাশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের ১ নম্বর ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভবনের সভাপতি ও সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম।
আহতরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), নাইস আহমেদ (৪০) এবং তার ছেলে মো. ওয়াসি (৮)। আহত নাইস আহমেদের দুটি পা ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক।
ভবনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, ফজরের নামাজের পর ভবনের পাঁচতলার তিন বাসিন্দা লিফটে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে লিফটটি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়।
শব্দ শুনে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী সেখানে গিয়ে লিফটের ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। পরে আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভবনের লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। অর্থ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমির চন্দ্র শীল অভিযোগ করেন, লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায়ই অচল থাকত। সামান্য মেরামত করে আবার চালু করা হতো। লিফটটি জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, দুর্ঘটনাই তার প্রমাণ।
তিনি আরও জানান, লিফটের সমস্যার কথা জানিয়ে কয়েকবার গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী মোকসেদ আলীও অভিযোগ করেন, বারবার জানানোর পরও মেরামতের অযোগ্য লিফটটি মেরামত করে চালানো হয়েছে। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
দুর্ঘটনার পর আবাসন প্রকল্পে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের আটটি ভবনের অধিকাংশের লিফটের অবস্থাই ভালো নয়। নিয়মিত ও যথাযথ মেরামত না করায় যেকোনো সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।