অর্থনীতি
আবাসন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা পুনর্নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে আবাসন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে ভোক্তা ঋণ সংক্রান্ত প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশনের ২৩ নম্বর বিধি সংশোধন করেছে। নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও রিয়েল এস্টেট খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনা করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারের মাধ্যমে এখন কোনো একক গ্রাহককে ব্যাংক সর্বোচ্চ কত টাকা আবাসন ঋণ দিতে পারবে তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আবাসন ঋণ পোর্টফোলিও পরিচালনার সক্ষমতার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ব্যাংকের শ্রেণিকৃত (খেলাপি) ঋণের হার অনুযায়ী ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:
-
খেলাপি ঋণ ≤ ৫%: সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা
-
খেলাপি ঋণ > ৫% এবং ≤ ১০%: সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা
-
খেলাপি ঋণ > ১০%: সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংক আবাসন ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত ৭০:৩০ অপরিবর্তিত রেখেছে। পাশাপাশি, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ঋণগ্রহীতার অবশ্যই নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নিট নগদ আয় থাকতে হবে তা নিশ্চিত করতে হবে।
১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নীতিমালা ২০০৪ ও ২০১৯ সালের পূর্ববর্তী নির্দেশনা প্রতিস্থাপন করবে। তবে ভোক্তা ঋণ সংক্রান্ত অন্যান্য বিধিনিষেধ অপরিবর্তিত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণের চাপের মধ্যে থাকা সম্ভাব্য গৃহমালিকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাংকগুলোকেও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস