অর্থনীতি

দীর্ঘ সময় পর বাড়লো টাকার মান, কমলো ডলারের দাম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫, ১২:৩২ পিএম

দীর্ঘ সময় পর বাড়লো টাকার মান, কমলো ডলারের দাম
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সময় পর ডলারের দাম টাকার বিপরীতে কমে ১২০ টাকার নিচে নেমে এসেছে, যা অর্থনীতিতে সাময়িক হলেও স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ এবং আমদানি ব্যয়ের স্থিতিশীলতা এ পরিবর্তনের মূল কারণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৪ জুলাই) ব্যাংকগুলো মার্কিন ডলার ১১৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২০ টাকা ১০ পয়সায় কেনাবেচা করেছে। অথচ জুলাই মাসের শুরুতে এই হার ছিল ১২২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। গত ১১ মাসের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন হার; এর আগে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বশেষ ডলারের দাম ১১৯ টাকায় নেমেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর দেশের অর্থনৈতিক খাতে আস্থা কিছুটা ফিরেছে। এতে রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ায় বাজারে ডলারের ওপর চাপ কমেছে, ফলে এর দামও কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, জুন মাসে আইএমএফ, এডিবি, জাইকা ও এআইআইবির সহায়তা বাবদ বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে। চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) প্রথম ১১ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার, যেখানে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ২৫০ কোটি ডলার। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.১৭ শতাংশ কম।

রেমিট্যান্সেও দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে (২০২৪-২৫) প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়নের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এটি দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছর শেষে এই রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

এ অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ১৫ মে থেকে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে বাজারভিত্তিক নতুন পদ্ধতি চালু করে, যেখানে ব্যাংক ও গ্রাহকরা যৌথভাবে হার নির্ধারণ করে থাকেন। শুরুতে এ নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে ডলারের দাম কমে গেছে এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য অনেকটাই ফিরে এসেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধারা বজায় রাখতে হলে বাজারে নিয়ন্ত্রিত নজরদারি এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখা জরুরি। একইসঙ্গে প্রবাসী আয়ের উৎস বিস্তৃত করা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে মুদ্রাবাজারে টাকার মান আরও শক্তিশালী হবে এবং মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।