জাতীয়

রেলওয়ের বহরে যুক্ত হচ্ছে ৮০ নতুন লোকোমোটিভ, ৩০টির প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

রেলওয়ের বহরে যুক্ত হচ্ছে ৮০ নতুন লোকোমোটিভ, ৩০টির প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ট্রেন চলাচল আরও গতিশীল করতে নতুন করে ৮০টি লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। এসব লোকোমোটিভ কেনার জন্য বিধি অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে ক্রয়প্রক্রিয়া শেষে লোকোমোটিভগুলো দেশে পৌঁছাতে আরও দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

শেখ রবিউল আলম বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যত দ্রুত সম্ভব এসব লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা গেলে রেলওয়ের পরিচালন সক্ষমতা বাড়বে এবং ট্রেন চলাচলের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

দেশের রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৮ বছরে রেল খাতে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও এ খাতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অপচয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অনিয়মের কারণে রেলওয়ের যে অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, তা অর্জিত হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রেলওয়ে পিছিয়ে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও রেলসম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে রেলসেবার মানে যে ধরনের উন্নতি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। গত ১৮ বছরে রেলওয়ে বিভাগে যথাযথ তদারকির অভাব ছিল। বর্তমান সরকার এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। তবে রেলওয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা পৌঁছে দিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে। রেলসেবার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সক্রিয় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

রেল যোগাযোগকে আরও যাত্রীবান্ধব করার পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে রেলওয়ে খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে রেল যোগাযোগের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।

ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও সুবিধাজনক করার পরিকল্পনার কথাও জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, এসব জেলা থেকে সকালে ঢাকায় এসে দিনের কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে সরকার কাজ করছে। এর মাধ্যমে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি সড়কের ওপর চাপ কমানো এবং রেলসেবাকে আরও জনবান্ধব করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রী বলেন, নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের রেলওয়েকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তোলার চেষ্টা চলছে। যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলামসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।