অর্থনীতি
কাঠামোগত সংস্কারে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি : আইএমএফ
বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় সফর শেষে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন আইএমএফ মিশন প্রধান ক্রিস পাপেইজর্জিউ।
তিনি জানান, বিদেশনির্ভরতা কমাতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার রাজস্ব ও আর্থিক নীতি কঠোর করেছে।
গত মে মাসে বিনিময় হার সংস্কারের পর রিজার্ভ আবার বাড়তে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পাপেইজর্জিউ বলেন, ২০২৫ অর্থবছরের শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে নেমে এসে অক্টোবরে দাঁড়িয়েছে ৮.২ শতাংশ। তবে দুর্বল কর রাজস্ব ও আর্থিক খাতে মূলধনের ঘাটতির কারণে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তার মতে, যথাযথ নীতিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে—
- ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫% হতে পারে
- ২০২৬ সালে মুদ্রাস্ফীতি ৮.৮%, যা ২০২৭ সালে ৫.৫%-এ নেমে আসতে পারে
তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ব্যাংক খাতের সংস্কারে বিলম্ব হলে প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি আবার বাড়তে পারে।
আইএমএফের প্রস্তাবিত কর সংস্কারের মধ্যে রয়েছে—
- কম হারে ভ্যাট বাতিল
- অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় প্রত্যাহার
- সব প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যূনতম টার্নওভার কর বাড়ানো
- কর প্রশাসন শক্তিশালী করা
এসব বাস্তবায়ন হলে সামাজিক ব্যয়, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও ব্যাংক খাত সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত রাজস্ব জোগাড় সম্ভব হবে বলে জানান মিশন প্রধান।
পাপেইজর্জিউ বলেন,
- দুর্বল ব্যাংকের সমস্যা সমাধানে চাই বিশ্বাসযোগ্য পুনর্গঠন পরিকল্পনা
- সব রাষ্ট্রায়ত্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের জন্য অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ বিস্তৃত করতে হবে
- ব্যাংকগুলোর সুশাসন, স্বচ্ছতা, তারল্য ও অ-সম্পাদিত ঋণ পুনরুদ্ধারের কাঠামো উন্নত করতে হবে
- দীর্ঘমেয়াদি ছাড়ের ওপর নির্ভর না করে টেকসই মুনাফা অর্জনের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ৫-৬ শতাংশে ফিরে না আসা পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি নতুন বিনিময় হার ব্যবস্থার পুরোপুরি বাস্তবায়ন ও অপ্রচলিত লিকুইডিটি সাপোর্ট ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরামর্শ দেন।
রপ্তানি বৈচিত্র্য, যুব কর্মসংস্থান ও সক্ষমতা উন্নয়নে নীতিমালা গ্রহণই টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা চলমান থাকবে।
মিশন প্রধান বলেন, “বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনে আইএমএফ একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।”
ঢাকায় অবস্থানকালে আইএমএফ দল সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।