অর্থনীতি

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা নির্ধারণ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা নির্ধারণ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে সম্ভাব্য সংকট ও আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটা ঠেকাতে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

শুক্রবার জারি করা এক নির্দেশনায় বিপিসি জানিয়েছে, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নেওয়ার অনুমতি থাকবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ এবং মাইক্রোবাস প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি নিতে পারবে। পিকআপ বা স্থানীয় বাসের জন্য দৈনিক ডিজেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি নিতে পারবে।

বিপিসি জানায়, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটজনক পরিস্থিতিতে কখনো কখনো এই আমদানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত হতে পারে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনতে শুরু করেছেন।

এ ছাড়া কিছু ভোক্তা ও ডিলার ফিলিং স্টেশন থেকে অতিরিক্ত তেল কিনে অবৈধভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই তেল সরবরাহে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে চালান দেশে আসছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ডিপোতে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে উঠবে।

এ ছাড়া এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোকে ভোক্তাদের তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ডিলারদের বরাদ্দ অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল দেওয়া যাবে না।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার ছুটির দিনেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। পরীবাগ এলাকায় অবস্থিত মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হয়ে শাহবাগ মেট্রোরেলের নিচ পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুরের দিকে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।