শিক্ষা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেড


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৪ এএম

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেড
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বহুদিনের বেতন বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে তাদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) এ বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। অনুমোদন পেলে দেশের হাজার হাজার প্রধান শিক্ষক উপকৃত হবেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেড থেকে উন্নীত করে ১০ম গ্রেডে নিলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩৪১ কোটি ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪০ টাকা।

ডিপিই থেকে পাঠানো প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তা পাঠাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অনুমোদনের পর অফিস আদেশ জারি হবে।

ডিপিইর পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, “রোববার প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে শুধু রিটকারী ৪৫ জন নয়, সব প্রধান শিক্ষকই এই সুবিধা পাবেন।” তবে কবে নাগাদ এটি বাস্তবায়ন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

গত ১৯ জুন উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করে অফিস আদেশ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর ১৩ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে, যা সব প্রধান শিক্ষকের জন্য গ্রেড উন্নীতির পথ খুলে দেয়।

এর আগে, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। সেই অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি হলেও পরে প্রশিক্ষিত প্রধানদের জন্য ১১তম এবং অপ্রশিক্ষিতদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়। বিষয়টিকে বৈষম্যমূলক মনে করে প্রধান শিক্ষক সমিতির তৎকালীন সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেন।

দেশজুড়ে ৬৫ হাজার ৫০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩২ হাজার ৩৫২ জন। এই পদগুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।