বিনোদন
এইচএসসিতে কত পেয়েছিলেন তারকারা: কেমন কেটেছে ফলাফলের দিন!
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ—যা গত দুই বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ এবং ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এইচএসসি ফলাফলের দিন মানেই শিক্ষার্থীদের মনে টেনশন, উৎকণ্ঠা আর স্বপ্নের মিশেল। একসময় এ দিনটি নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন দেশের জনপ্রিয় তারকারাও। তাদের জীবনের সেই স্মৃতি আজও স্পষ্ট—কখনও ভয়ের, কখনও আনন্দের। এবার জানুন, প্রিয় তারকারা কীভাবে পেয়েছিলেন এইচএসসিতে, আর কেমন ছিল তাদের ফলাফল ঘোষণার দিনটি।
জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি: ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। সে সময় প্রশ্ন ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়লেও, তিনি সেই পথে হাঁটেননি। নিজের যোগ্যতায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। হিমি বলেন, “ফলাফলের দিন খুব ভয় লাগছিল। সবাই ৪ বা ৪.৫০ পাচ্ছিল, ভাবলাম আমারও হয়তো এমনই হবে। পরে দেখি আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না!”
তাসনিয়া ফারিণ: তাসনিয়া ফারিণ এইচএসসি পাস করেন ঢাকার হলিক্রস কলেজ থেকে। ফলাফল ঘোষণার আগের দিন তিনি দোয়া করছিলেন যেন আল্লাহ মুখ তুলে তাকান। তিনি জানান, “আম্মু পড়াশোনায় খুব কড়াকড়ি ছিলেন। খারাপ করলে নাকি বিকল্প ভাববেন বলতেন। তাই চাপের মধ্যেই পড়তাম। রেজাল্টে জিপিএ-৫ পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলাম, বিশেষ করে আম্মুর মুখে হাসি দেখেই সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি।”
সাফা কবির: অভিনেত্রী সাফা কবির ২০১২ সালে বিএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি বলেন, “ফলাফল ঘোষণার আগের রাতটা আমি ঘুমাতে পারিনি। সকালে কলেজে গিয়ে ভয়ে ভয়ে ফল জানলাম। পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিলাম না, শুধু মায়ের জন্যই চেষ্টা করতাম। পরে দেখি জিপিএ ৪.৫০। আম্মুর প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরে সত্যিই ভালো লেগেছিল।”
সাদিয়া আয়মান: বরিশাল মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আয়মান ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেন। তিনি জানান, “ফলাফলের আগে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভাবছিলাম এ প্লাস পাব কি না। শেষ পর্যন্ত ৪.৩৯ পেয়ে খুশি হয়েছি। যদিও আম্মু একটু মন খারাপ করেছিলেন, তবে পরিবার কখনোই আমাকে ফলাফলের চাপে রাখেনি।”
তানজিম সাইয়ারা তটিনী: অভিনেত্রী তটিনী পড়াশোনায় ছিলেন ভীষণ মনোযোগী। বন্ধুরা আগেই বলেছিল, তিনি নিশ্চয়ই ভালো ফল করবেন। তটিনী বলেন, “ভয় পেতাম, ফল খারাপ হলে সবাই কী বলবে! ভয়ে ভয়ে রেজাল্ট দেখতে গিয়েছিলাম। পরে দেখি গোল্ডেন এ প্লাস! তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম।”
ফলাফলের দিনটি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, একসময়কার তারকাদের কাছেও ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা এক বিশেষ দিন। কেউ পড়াশোনায় কঠোর পরিশ্রমে সফল হয়েছেন, কেউ আবার ভয় পেয়ে কেঁপেছেন—তবে সবারই মুখে শেষে ফুটেছে হাসি। কারণ, এইচএসসি শুধু ফল নয়, জীবনের এক মধুর স্মৃতি।