বিনোদন
জানি এ জীবন কঠিন, তবুও কঠিনকে গ্রহণ করেছি: অভিনেত্রী ভাবনা
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পের নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরতে নির্মাতা আসিফ ইসলাম নির্মাণ করেছেন নতুন চলচ্চিত্র কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে ছবিটির অফিশিয়াল ট্রেলার, যেখানে ‘প্রিন্সেস রোজী’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা।
চরিত্রটিকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে গিয়ে নিজের ভেতরের দ্বন্দ্ব, সংকোচ ও মানসিক লড়াইয়ের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে তুলে ধরেছেন ভাবনা। তিনি জানান, চরিত্রটি প্রথম হাতে পাওয়ার পর তার মনে হয়েছিল—এটি কীভাবে সম্ভব?
ভাবনা লিখেছেন, তিনি একজন শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে ছোটবেলা থেকেই একটি নির্দিষ্ট নান্দনিকতা ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। ফলে ‘প্রিন্সেস রোজী’ চরিত্রের নাচ ও অঙ্গভঙ্গি তার পরিচিত শিল্পচর্চার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।
শুধু অভিনয়গত চ্যালেঞ্জই নয়, সামাজিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও ছিল তার মনে। কারণ দর্শক অনেক সময় অভিনেতাকে চরিত্রের সঙ্গেই এক করে দেখেন। বিশেষ করে নারী অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিচার আরও প্রবল বলে মনে করেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত শিল্পীর সত্তাই জয়ী হয়। নিজের কাছে প্রশ্ন করে তিনি উত্তর খুঁজে পান—তিনি এই চরিত্রটি করতে চান। এরপর নির্মাতা আসিফ ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে চরিত্রের গভীরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
ভাবনা জানান, দিনের পর দিন তারা শুধু গল্প ও চরিত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল তিনি অনুভব করেন যখন মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব–এ বড় পর্দায় নিজেকে ‘প্রিন্সেস রোজী’ রূপে দেখেন। তার ভাষায়, তিনি নিজেকেই চিনতে পারেননি; কিছু দৃশ্য দেখে লজ্জায় মাথাও নত হয়ে গিয়েছিল।
অভিনয়ের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, তিনি সারাজীবন অভিনেত্রী হিসেবেই বেঁচে থাকতে চান। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই তিনি চরিত্রের ভেতর নিজেকে খুঁজে পেতে চান।
প্রসঙ্গত, যাত্রাপালার পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ‘প্রিন্সেস রোজী’ চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে আশনা হাবিব ভাবনা অংশ নিয়েছেন ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। মর্যাদাপূর্ণ এই উৎসবের ‘আর্টকোর’ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।ছিল চলচ্চিত্রটি।