ফিচার

আপনি কি হাঁস পালতে চান? খেয়াল রাখতে হবে ৭টি বিষয়


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২১ পিএম

আপনি কি হাঁস পালতে চান? খেয়াল রাখতে হবে ৭টি বিষয়
ছবিঃ সংগৃহিত

হাঁস খুবই বন্ধুভাবাপন্ন স্বভাবের একটি পোষা প্রাণী। ঠিকমতো থাকার জায়গা, সঠিক খাবার ও যত্ন পেলে তারা অনেক বছর আপনার সঙ্গী হয়ে থাকতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেকেই শখ করে কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো পাখির বদলে হাঁস পোষেন। আমাদের দেশে বিষয়টি কম প্রচলিত। তবে এখন অনেকেই হাঁস রাখতে চাচ্ছেন পেট হিসেবে। কিন্তু সেজন্য কিছু বিষয় আগে থেকেই জেনে নিতে হবে।


১. হাঁস কত বছর বাঁচে

বেশিরভাগ হাঁস প্রায় দশ বছর পর্যন্ত বাঁচে, তাই দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।


২. কোন জাতের হাঁস পালবেন

পিকিং, কায়ুগা, কল, রুয়েন, বাফ অরপিংটন, মাসকোভি, সুইডিশ, ম্যালার্ড, খাকি ক্যাম্পবেল, ওয়েলশ হার্লেকুইন, ইন্ডিয়ান রানার ও আইডার, এগুলো বেশ পরিচিত জাত। মাথায় নরম ফ্লাফি ঝুঁটিওয়ালা হাঁসও খুব জনপ্রিয়। একে ক্রেস্টেড ডাক বলা হয়।  

 

৩. স্বভাব ও আচরণ

কিছু হাঁস, যেমন পিকিং জাতেরগুলো শান্ত ও বন্ধুসুলভ আচরণ করে। আবার কিছু জাত বেশি চঞ্চল ও ডাকাডাকি করে। শব্দ নিয়ে সমস্যা থাকলে শান্ত জাত বেছে নেওয়া ভালো। ছোটবেলা থেকে সঙ্গে রেখে অভ্যস্ত করলে তারা মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যায়। সাধারণত হাঁস আক্রমণাত্মক নয়, তবে ডিমে তা দেওয়া বা বাচ্চা পাহারা দেওয়ার সময় সতর্ক থাকে। দাঁত না থাকলেও ঠোঁট দিয়ে আঘাত করতে পারে। বাড়িতে কুকুর-বিড়ালের পাশাপাশি এখন অনেকেই হাঁসকেও পোষা প্রাণী হিসেবে রাখছেন। পিছু পিছু ঘোরার অভ্যাস থাকায় হাঁস খুব সহজেই পরিবারের সদস্য হয়ে উঠতে পারে।


৪. সুষম খাবার

পোষা হাঁসের জন্য মানসম্মত ফিড, ভুট্টা, ধান, শাকসবজি কুচি দেওয়া যায় খাদ্য হিসেবে। অনেকেই ভাত বা বাসি খাবার দেন, কিন্তু শুধু এগুলো দিলে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিলে হাঁস সুস্থ ও সক্রিয় থাকে। অতিরিক্ত খাবার দিলে মোটা হয়ে যেতে পারে—সেদিকেও নজর রাখতে হবে। এমনিতে হাঁস সর্বভুক। বাজারের তৈরি হাঁসের দানাদার খাবার তাদের প্রধান খাদ্য হলে ভালো। সঙ্গে কেঁচো, মটরশুঁটি বা ভুট্টা দেওয়া যায়।


৫. পানির ব্যবস্থা

হাঁসের জীবনে পানি অপরিহার্য। পুকুর থাকলে সবচেয়ে ভালো, না থাকলে বড় টব, প্লাস্টিকের পুল বা ড্রামে গোসলের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে পানি নিয়মিত বদলানো জরুরি, নইলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। হাঁস খাবার গিলতে পানির সাহায্য নেয় আর রোজ অন্তত এক লিটার পরিষ্কার পানির প্রয়োজন হয়, তাই হাঁসের পানির পাত্র পূর্ণ ও পরিষ্কার রাখা জরুরি।

 

৬. সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা

হাঁস সাধারণত সুস্থ থাকে, তবে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে—যেমন বাম্বলফুট (পায়ের সংক্রমণ), ডিম আটকে যাওয়া, ধাতব বস্তু খেয়ে অসুস্থ হওয়া, ছত্রাকজনিত শ্বাসকষ্ট (অ্যাসপারজিলোসিস), বিষক্রিয়া, বটুলিজম, ছাঁচযুক্ত খাবার খেয়ে লিভারের ক্ষতি, ই. কোলাই সংক্রমণ, অ্যাভিয়ান কলেরা, নিউ ডাক ডিজিজ এবং ডাক প্লেগ। হাঁসের টিকা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি। পালক ঝরা, খাওয়া কমে যাওয়া বা নিস্তেজ হয়ে পড়া—এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। থাকার জায়গা ও পানির পাত্র প্রতিদিন পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কারণ নোংরা পরিবেশ, দূষিত পানি, ভুল খাবার বা অসুস্থ হাঁসের সংস্পর্শ এসব রোগের প্রধান কারণ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক খাবার নিশ্চিত করলে অধিকাংশ সমস্যাই এড়ানো সম্ভব।

 

৭. সঙ্গ ও মানসিক যত্ন

হাঁস খুব সামাজিক প্রাণী। একা রাখলে তারা একঘেয়ে ও বিষণ্ন হয়ে পড়তে পারে। তাই জোড়া বা ছোট দলে রাখা ভালো। নিয়মিত সময় দেওয়া, কথা বলা, হাতে খাওয়ানো- এসব তাদের মানুষের সঙ্গে বন্ধন গড়ে তোলে।

 

 

 

তথ্যসূত্র: পেট এমডি, পেট অ্যাশিউর