স্বাস্থ্য
অলসতা দূর করার ৮ সহজ উপায়
অলসতা শুধু কাজ করতে অনীহার বিষয় নয়; অনেক সময় এটি শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের ফলেও দেখা দিতে পারে। তবে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ধীরে ধীরে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অলসতা দূর করার কার্যকর উপায়:
১. সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে না থেকে হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা স্ট্রেচিং করলে শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।
২. একসঙ্গে অনেক কাজের চাপ না নিয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বড় কাজকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে সম্পন্ন করলে মানসিক চাপ কমে এবং কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।
৩. পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম শরীরকে সতেজ রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে ক্লান্তি জমে গিয়ে অলসতা বাড়তে পারে।
৪. অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানোর অভ্যাসও কাজের মনোযোগ নষ্ট করে। তাই নির্দিষ্ট সময় ছাড়া ফোন ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
৫. খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার শরীরকে ভারী করে তোলে। এর বদলে ফল, শাকসবজি, পর্যাপ্ত পানি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
৬. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম শুধু শরীর নয়, মনকেও চাঙা রাখে। প্রতিদিন অল্প সময় হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলেও অলসতা কমতে পারে।
৭. কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা থেকেও অলসতা বাড়ে। “পরে করবো” মানসিকতা বাদ দিয়ে অল্প সময়ের জন্য হলেও কাজ শুরু করার অভ্যাস তৈরি করা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে কাজ শুরু করতে পারলেই তা শেষ করার আগ্রহ তৈরি হয়।
৮. এ ছাড়া ইতিবাচক ও কর্মঠ মানুষের সঙ্গে সময় কাটালে নিজের মধ্যেও উদ্যম তৈরি হয় বলে মনে করা হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, কাজের প্রতি অনাগ্রহ, ঘুম ঘুম ভাব বা মন খারাপ থাকলে তা শারীরিক কিংবা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।