সারাবিশ্ব

আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে আশার আলো, ২১% বেড়েছে মুদ্রার মান


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৬ এএম

আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে আশার আলো, ২১% বেড়েছে মুদ্রার মান
ছবি: সংগৃহীত

তালেবান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত আফগানিস্তান আজ অর্থনীতির ক্ষেত্রে এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতা দখলের সময় বিপুল পরিমাণ ডলার নিয়ে ক্ষমতাসীনরা দেশত্যাগ করলে দেশটির অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়ে।

সেই সময়ে দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের কারণে বহু পরিবার চরম দুর্দশায় সন্তান বিক্রির মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু তালেবান সরকারের চার বছরের শাসন শেষে এখন আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থিতিশীলতা ও উন্নতির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে আফগান মুদ্রার মান ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে আফগানি মুদ্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র হাসিবুল্লাহ নুরি জানিয়েছেন, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুদ্রার মান বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতকে প্রসারিত করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা বাড়ানো। তিনি জানান, উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক খাতের অর্থায়ন গত এক বছরে ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাসিবুল্লাহ নুরি আরও বলেন, “গত বছর বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে আফগান মুদ্রার মান ০.৭৯ শতাংশ ইতিবাচক ছিল, বিশেষ করে ডলারের বিপরীতে। এটি প্রমাণ করে আমাদের মুদ্রা স্থিতিশীল রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে মুদ্রার মান যেন অতি মাত্রায় ওঠানামা না করে, সেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।”

বর্তমানে বিশ্বের ২০০টিরও বেশি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করছে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এ সংখ্যা আরও বাড়ানো গেলে আফগান ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ব্যাপকভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাতে এখনও কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা গেলে এ সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তবে অনেক গ্রাহক এখনও অভিযোগ করছেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা সবসময় পাওয়া যায় না।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং বৈশ্বিক ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সংযোগ আরও জোরদার করা যায়, তবে দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে।

সূত্র: তোলো নিউজ