সারাবিশ্ব

উত্তেজনা বাড়ায় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ চীনের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

উত্তেজনা বাড়ায় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ চীনের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে ইরান ভ্রমণ থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বেইজিং। এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত অন্তত নয়টি দেশ ইরান থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাল। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইরানে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বার্তায় জানায়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে চীনা নাগরিকদের ইরান সফর থেকে বিরত থাকতে হবে। যৌথ সতর্কবার্তাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম উইচ্যাটে প্রকাশ করা হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানায়, যারা ইতোমধ্যে ইরানে অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ উপায়ে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার ছায়া পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দূতাবাসের কর্মীদের ‘আজই’ দেশটি ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে পাঠানো এক ইমেইলে তিনি জানান, কোনো কর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্যরা যদি ইসরাইল ছাড়তে চান, তাহলে বিলম্ব না করে আজই চলে যাওয়া উচিত।

এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও। ইরান ও ইসরাইল ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় তেল আবিবগামী ফ্লাইট স্থগিত করছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের ইরান ও ইসরাইল ভ্রমণে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে।

নেদারল্যান্ডসের প্রধান বিমান সংস্থা কেএলএম আমস্টারডাম–তেল আবিব রুটে ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তেল আবিবে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধে চাপ বাড়াতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন।

অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন ও ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে হস্তক্ষেপ ও সরকার পরিবর্তনের অজুহাত তৈরি করছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো সামরিক হামলার জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে। একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করেছে, পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে হলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান এই উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও।