সারাবিশ্ব

পশ্চিমতীরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করে দিল ইসরায়েল


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৭ এএম

পশ্চিমতীরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করে দিল ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিমতীরের হেবরনে ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। একই সঙ্গে পুরোনো শহরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ইহুদি উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের সুযোগ করে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হেবরন ডিফেন্স কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা আরেফ জাবের সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই পুরোনো শহরের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে। দুই দফায়—শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে—শতাধিক অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ভারী সামরিক পাহারায় শহরের অভ্যন্তরে ঢুকে রাস্তায় ‘উসকানিমূলক’ শোভাযাত্রা পরিচালনা করে।

জাবের দাবি করেন, এই কারফিউ মূলত ইব্রাহিমি মসজিদের মুসলিম অধ্যুষিত অংশ পুরোপুরি দখলে নেওয়ার এবং সেটিকে সিনাগগে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি পরিকল্পনারই অংশ।

ফিলিস্তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে ইব্রাহিমি মসজিদের সুক গেট বন্ধ রেখে আসছে। পাশাপাশি পূর্বদিকের প্রধান গেটটিও তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে এবং মসজিদের জানালাগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছে—যাতে মুসলিম উপাসকদের প্রবেশ ও উপস্থিতি সীমিত করা যায়।

হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত ইব্রাহিমি মসজিদ বর্তমানে পুরোপুরি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে। এখানে প্রায় ৪০০ অবৈধ ইহুদি বসতকারী বসবাস করে, যাদের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকে প্রায় ১,৫০০ ইসরায়েলি সেনা।

১৯৯৪ সালে এক ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী মসজিদে হামলা চালিয়ে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে হত্যা করলে মসজিদটি দুই অংশে ভাগ করে দেয় ইসরায়েল। এর ৬৩ শতাংশ বরাদ্দ করা হয় ইহুদিদের উপাসনার জন্য এবং বাকি ৩৭ শতাংশ মুসলিমদের জন্য। মসজিদের যে ঘর থেকে আজান দেওয়া হয়, সেটিও ইহুদিদের বরাদ্দ অংশে পড়ে।

প্রচলিত ব্যবস্থাপনায় বছরে ১০ দিন ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের সময় মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। একইভাবে ১০ দিনের ইসলামি উৎসবে ইহুদিদের জন্য মসজিদ বন্ধ থাকে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ প্রবেশাধিকার আর কার্যকর করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ ফিলিস্তিনিদের।

সূত্র: আনাদোলু