সারাবিশ্ব

সিআইএ ও ইসরায়েল যেভাবে খামেনির অবস্থান শনাক্ত করে


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

সিআইএ ও ইসরায়েল যেভাবে খামেনির অবস্থান শনাক্ত করে
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় হয়েছিল বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলকে অত্যন্ত নির্ভুল ও সময়োপযোগী তথ্য সরবরাহ করে।

সূত্র অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরেই সিআইএ খামেনির চলাফেরা, অবস্থান ও দৈনন্দিন অভ্যাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা বলয়, যাতায়াতের ধরন ও অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দাদের কাছে আরও নিশ্চিত তথ্য জমা হয়।

শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান–এর কেন্দ্রস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার তথ্য পায় সিআইএ। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়, যাতে একযোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়।

উক্ত কমপ্লেক্সে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় অবস্থিত। ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছিল, সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি–এর শীর্ষ কমান্ডাররা। সম্ভাব্য উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

অভিযান শুরু হয় ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে। যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তু কমপ্লেক্সে আঘাত হানে।

একই সময়ে কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষ কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন, আর খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে। ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়। তাঁর ভাষায়, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু এই হামলায় ইসরায়েল কৌশলগত চমক দেখাতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও সিআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, শনিবারের হামলায় রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি ও মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।

অভিযানে জড়িত সূত্রগুলোর মতে, এটি ছিল কয়েক মাসব্যাপী প্রস্তুতি ও গভীর গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের ফল। গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের সময় খামেনি ও আইআরজিসির যোগাযোগব্যবস্থা ও চলাচলের ধরন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছিল, যা এবারের অভিযানে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হয়।

হামলার পর ইরানের কয়েকজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরে যেতে সক্ষম হলেও, দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের বড় একটি অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস