সারাবিশ্ব
ইসরায়েলের বন্দিশালায় ধর্ষণের শিকার জার্মান অধিকারকর্মী জানালেন ভয়াবহ তথ্য
ইসরায়েলের হেফাজতে থাকার সময় ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের কর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থি জার্মান অধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে।
বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। লিডকে জানান, বন্দিশালায় বেআইনিভাবে শরীর তল্লাশির সময় কারারক্ষীরা তাকে জোর করে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে এবং মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের সময় আশপাশে থাকা পুরুষ রক্ষীদের হাসির শব্দ তিনি শুনতে পান। তার ধারণা, তারা এই নির্যাতন প্রত্যক্ষ করছিল এবং সম্ভবত ভিডিও ধারণও করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থল আংশিকভাবে পর্দা দিয়ে আড়াল করা থাকলেও সেটি খোলা রেখেছিল কারা কর্তৃপক্ষ।
২৫ বছর বয়সী এই অধিকারকর্মী গত শরতে ইউরোপ থেকে গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরে যোগ দেন। ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলের বাহিনী তাদের নৌযান আটক করে এবং তাকে ইসরায়েলে নিয়ে গিয়ে পাঁচ দিন আটক রাখা হয়।
লিডকে বলেন, ফ্লোটিলার কর্মীদের ওপর চালানো ধর্ষণসহ সহিংসতার উদ্দেশ্য ছিল তাদের ভয় দেখানো ও মনোবল ভেঙে দেওয়া। তিনি বলেন, “আমাদের চুপ করিয়ে দিতে তারা এমন মানসিক আঘাত দিতে চায়, যাতে আমরা আর কখনো ফিলিস্তিন নিয়ে কথা না বলি।”
ঘটনার পর তিনি বন্ধু ও চিকিৎসকদের বিষয়টি জানান এবং গত ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। তার পাশাপাশি আরও একাধিক কর্মী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন, যদিও অধিকাংশই পরিচয় গোপন রেখেছেন।
এ ঘটনায় লিডকের আইনজীবীরা ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগপত্রটি দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা, কারারক্ষী তদন্ত বিভাগ ও গিভন কারাগারের কমান্ডারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
লিডকের আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ জানান, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইসরায়েলে বন্দি নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’কে চ্যালেঞ্জ করা। মানবাধিকার সংগঠন ‘আদালাহ’-এর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অ্যানা ন্যায়বিচার চান এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
লিডকে বলেন, “চুপ থাকলে একই ঘটনা অন্যদের সঙ্গেও ঘটবে। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এ বিষয়ে কথা বলা আমার দায়িত্ব।”