সারাবিশ্ব

গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত ৭৪০-এর বেশি ফিলিস্তিনি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৫, ১০:২২ এএম

গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত ৭৪০-এর বেশি ফিলিস্তিনি
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে খাবারের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায়।

গাজা সিটি থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, “ক্ষুধার্ত মানুষ যখন শেষ আশায় খাবার নিতে আসে, তখনই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অনেক মা নিজে না খেয়ে সন্তানদের জন্য খাবার তুলে রাখছেন। পরিবারগুলো খাবার বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে খাচ্ছে। কেউ কেউ পুরো দিন অনাহারে থাকছেন।”

জিএইচএফ প্রকল্পটি চালু হয়েছে গত মে মাসের শেষ দিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে। কিন্তু শুরু থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জিএইচএফ-এর নিরাপত্তাকর্মী এবং ইসরায়েলি সেনারা খাদ্য নিতে আসা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে।

এপি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, জিএইচএফ-এ কর্মরত কয়েকজন মার্কিন ঠিকাদার জানিয়েছেন, নিরাপত্তাকর্মীরা “অস্ত্র নিয়ে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছে” এবং ত্রাণপ্রার্থীদের প্রতি সহিংস আচরণ করছে।

অভিযোগের বিষয়ে জিএইচএফ দাবি করেছে, “এই সব তথ্য ভিত্তিহীন। আমরা আমাদের সাইটগুলোর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখি।” তবে ঘটনা থেমে থাকেনি।

গত শনিবার, দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে জিএইচএফ-এর একটি সহায়তা কেন্দ্রে গ্রেনেড হামলায় দুই মার্কিন কর্মী আহত হন। তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই প্রকল্পের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “জিএইচএফ-ই একমাত্র সংস্থা যা গাজায় খাদ্য পৌঁছে দিতে পেরেছে।” জুন মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেয় জিএইচএফ প্রকল্পে।

এই ঘটনাগুলো নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রকল্পে সহিংসতার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, মানবিক সহায়তার নামে নতুন এক দমন-পীড়নের চেহারা নিয়েছে এই উদ্যোগ।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও নাজুক হয়ে পড়ছে। খাদ্য, পানি, ওষুধসহ মৌলিক চাহিদার সংকটে প্রতিনিয়ত চরম দুর্দশায় পড়ছে সাধারণ মানুষ।