সারাবিশ্ব

ভারত-চীন-ব্রাজিলকে ন্যাটোর কড়া হুঁশিয়ারি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৮:৩১ পিএম

ভারত-চীন-ব্রাজিলকে ন্যাটোর কড়া হুঁশিয়ারি
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে ভারত, চীন ও ব্রাজিলকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে।

বুধবার (১৬ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন, যা ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মার্ক রুটে বলেন, “যদি ব্রাজিল, চীন কিংবা ভারত রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এই নিষেধাজ্ঞা খুবই কঠোর হবে এবং অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক ও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে আপনি যদি এখন বেইজিংয়ে থাকেন, দিল্লিতে থাকেন বা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে আপনাকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। কারণ এর প্রত্যক্ষ প্রভাব আপনাদের দেশগুলোর অর্থনীতিতে পড়বে।”

এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময় এসেছে, যখন এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া যদি আগামী ৫০ দিনের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে রাশিয়ার রপ্তানি অংশীদারদের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্পের বক্তব্যকে সমর্থন করে ন্যাটো মহাসচিব বলেন, “এখন সময় এসেছে ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করে বলা—এখনই শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় শুধু রাশিয়াই নয়, বরং তার বাণিজ্য অংশীদাররাও চরম মূল্য দেবে।”

তবে মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসা করলেও ৫০ দিনের সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, পুতিন এই সময়কে ব্যবহার করতে পারেন ইউক্রেন যুদ্ধের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে অথবা আরও এলাকা দখলের চেষ্টা চালাতে।

তিনি বলেন, “আমরা যতক্ষণ না রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামাতে পারছি, ততক্ষণ ইউক্রেন কোনো শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে না। আগামী ৫০ দিনে রাশিয়া যা কিছু অর্জন করবে, তা আলোচনার টেবিল থেকে বাদ দিতে হবে।”

এদিকে, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার বিষয়ে ন্যাটো মহাসচিব জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এক চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে শুধু বিমান প্রতিরক্ষা নয়, বরং ক্ষেপণাস্ত্রসহ ভারী অস্ত্র সরবরাহ করবে। পাশাপাশি ইউরোপের গোলাবারুদ মজুদও পাঠানো হবে ইউক্রেনে।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—উভয় মাত্রায় ব্যবহারযোগ্য। বিষয়টি এখন পেন্টাগনের তত্ত্বাবধানে ইউরোপের উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ড এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর এই হুঁশিয়ারির ফলে ভারত, চীন ও ব্রাজিল—এই তিনটি দেশের ওপর পশ্চিমা চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সংযোগে নতুন প্রশ্ন দেখা দেবে।