সারাবিশ্ব
হাত মেলানোর দুদিন পর পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি জয়শঙ্করের
ঢাকায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও হাত মেলানোর মাত্র দুদিন পর পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে পাকিস্তানের প্রতি স্পষ্ট হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভারতের চেন্নাইয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মাদ্রাজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আপনার কপালে খারাপ প্রতিবেশী থাকতেই পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদেরও এমন এক প্রতিবেশী রয়েছে। পশ্চিম দিকের একটি দেশ—পাকিস্তান—ইচ্ছাকৃতভাবে, অবিরামভাবে এবং কোনো অনুতাপ ছাড়াই যদি সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের জনগণকে রক্ষার অধিকার আমাদের রয়েছে। আর আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।”
তিনি আরও বলেন, এই অধিকার কীভাবে এবং কোন উপায়ে প্রয়োগ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত একান্তভাবেই ভারতের। “আমরা কী করব আর কী করব না—সে বিষয়ে অন্য কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না। নিজেদের সুরক্ষার জন্য যা করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব,”—বলেন জয়শঙ্কর।
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পটভূমি তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, গত এপ্রিল মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। এ হামলার দায় পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে ৭ মে ভোরে পাকিস্তানের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। এর পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও হামলা চালায়। পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে চার দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় থামে।
এই সংঘাতের আগেই ভারত ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি বাতিল করে। এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, “অনেক বছর আগে আমরা পানিবণ্টন চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলাম। কিন্তু যদি কয়েক দশক ধরে আপনার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ চালানো হয়, যদি কোনো প্রতিবেশীসুলভ আচরণ না থাকে, তাহলে আপনি একদিকে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাবেন আর অন্যদিকে বলবেন—‘পানি শেয়ার করুন’—এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো প্রতিবেশী অন্তত আপনার জন্য ক্ষতিকর না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি সহযোগিতামূলক আচরণ করা যায়। ভালো প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রে ভারত সব সময়ই সেই নীতি অনুসরণ করে।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। এ সময় ঢাকায় তাঁদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় এবং দুজন হাত মিলিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন। সেই ঘটনার মাত্র দুদিন পরই জয়শঙ্করের এই কড়া বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি