সারাবিশ্ব

বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কবার্তা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ এএম

বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার এখন পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের মুখে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালীরাই অনেক সময় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জেনেভা থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে গুতেরেস বলেন, “আইনের শাসনকে এখন পেশিশক্তির শাসন পরাস্ত করছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই আক্রমণ হঠাৎ করে বা ছায়া থেকে আসছে না। এটি সবার চোখের সামনেই ঘটছে। প্রভাবশালীরাই প্রায়শই নেতৃত্ব দিচ্ছেন—যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী।”

মহাসচিব নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের নিন্দা জানিয়েছেন। চার বছরের সহিংসতায় সেখানে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, “রক্তপাত বন্ধ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।”

এছাড়া তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতিতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটছে। বর্তমান গতিপথ দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে প্রকাশ্যে সরিয়ে দিয়েছে।”

গুতেরেস জোর দিয়ে বলেছেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি ঘটতে দিতে পারে না। ভোগান্তি উপেক্ষিত হচ্ছে।”

মহাসচিব আরও বলেন, শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা নয়, বিশ্বজুড়েই অধিকার ক্ষয় হচ্ছে। মানবাধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে, কৌশলগতভাবে এবং কখনও কখনও গর্বের সঙ্গেই পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে মানুষের ভোগান্তি অজুহাতে ঢেকে রাখা হয়, মানুষকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আর আন্তর্জাতিক আইনকে তুচ্ছ বাধা হিসেবে দেখা হয়।”

গুতেরেস সতর্ক করেন, মানবাধিকার ভেঙে পড়লে অন্য সব কিছুই ভেঙে পড়বে। মানবাধিকারের প্রতি সম্মানের সংকট প্রতিটি বৈশ্বিক ভাঙনকে তীব্রতর করছে। তিনি বলেন, “মানবিক চাহিদা বাড়ছে, অথচ তহবিল কমছে, বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে, এবং দেশগুলো ঋণ ও হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।”

জাতিসংঘ মহাসচিবের ভাষ্য, জলবায়ু বিপর্যয় ত্বরান্বিত হচ্ছে, প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অধিকার দমন করছে, বৈষম্য বাড়াচ্ছে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অনলাইন ও অফলাইনে নতুন ধরনের বৈষম্যের মুখে ফেলছে। “প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ, তারা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।”

তিনি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জোর দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘ সনদ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দলিলগুলো কোনো ‘পছন্দমতো বেছে নেওয়ার মেনু’ নয়। নেতারা কেবল তাদের পছন্দমতো অংশ নেবেন আর বাকিটা উপেক্ষা করবেন—“এটি চলতে পারে না।”

সূত্র: এএফপি