সারাবিশ্ব
ইরানের পাল্টা হামলার নতুন ধাপ, লক্ষ্যবস্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর নতুন ধাপের সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই হামলাগুলো এখন আগের তুলনায় দ্রুত ও আরও শক্তিশালীভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরান ‘কার্যকর ও কঠোর’ আঘাত হানার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে এবং প্রতিশোধমূলক এই অভিযানের তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনার পর থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
ইরানের অভিযোগ অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতায় ওই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে। এর জবাবে এখন দখলকৃত অঞ্চল এবং আশপাশের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ মার্চ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং ইরানের সেনাবাহিনী যৌথভাবে একাধিক দফায় হামলা চালায়। এসব অভিযানে খোররামশাহর, কদর, ফাত্তাহ, খায়বার-শেখান, ফাতেহ ও কিয়ামসহ বিভিন্ন আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিপুল সংখ্যক আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের ভেতরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নতুন পর্যায়ে হামলার গতি, নির্ভুলতা এবং ধ্বংসক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা এটিকে ‘ক্রাশিং স্ট্রাইক’ বা শত্রুপক্ষকে চূর্ণ করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করছে।
বিশেষ করে খোররামশাহর ও ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্রকে হাইপারসনিক ও দূরপাল্লার সক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করে তেহরান জানিয়েছে, এসব অস্ত্র ইসরায়েলের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে সক্ষম।
বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের ওপর চালানো হামলার পূর্ণ প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি