সারাবিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ শর্ত


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন করে কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে ইরান। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে তেহরান পাঁচ দফা শর্ত উত্থাপন করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদসূত্রের বরাতে এ তথ্য সামনে আসে।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ১২’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে চলা পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটেই ইরান এই প্রস্তাবগুলো দিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে—তাদের নির্দিষ্ট দাবি পূরণ ছাড়া যুদ্ধবিরতির কোনো প্রশ্নই নেই।

ইরানের উত্থাপিত ৫ শর্ত: 

১. স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা: ইরানি কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন, কেবল সাময়িক বিরতি নয়, বরং যুদ্ধ যে আর নতুন করে শুরু হবে না—তার পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

২. হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর জন্য এমন এক নতুন ব্যবস্থা দাবি করেছে তেহরান, যার মাধ্যমে ওই এলাকা কার্যত ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৩. মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়েছে ইরান।

৪. আর্থিক ক্ষতিপূরণ: যুদ্ধের কারণে ইরানের যে বিপুল পরিমাণ অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে দেশটি।

৫. সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: তেহরান বিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত সংবাদমাধ্যম ও কর্মীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এমনকি শত্রুভাবাপন্ন ব্যক্তিদের ইরানের হাতে হস্তান্তরের দাবিও জানানো হয়েছে।

এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং আলোচনা প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। তবে ইরানের উত্থাপিত এই শর্তগুলো বাস্তবায়নযোগ্য কিনা, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন এক অনিশ্চিত পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের এই পাঁচ দফা শর্ত গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।