সারাদেশ

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু এখনো পানির নিচে, ভরা মৌসুমেও পর্যটকশূন্য পর্যটনকেন্দ্র


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু এখনো পানির নিচে, ভরা মৌসুমেও পর্যটকশূন্য পর্যটনকেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর টানা দুই দফায় কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে গেছে রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনস্থল ঝুলন্ত সেতু। এখনো সেতুটির পাটাতনের প্রায় ছয় ইঞ্চি অংশ পানির নিচে রয়েছে। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেতুটিতে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি বন্ধ থাকায় ভরা পর্যটন মৌসুমেও রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে নেই আগের মতো পর্যটকদের ভিড় ও কোলাহল।

স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝুলন্ত সেতুটি বন্ধ থাকায় রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। পর্যটন কমপ্লেক্সের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হোটেল-মোটেলের বুকিংও কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রাঙামাটির পর্যটন কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পর্যটকদের উপস্থিতি বেশ কম। যেখানে পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে এলাকা, সেখানে বর্তমানে অনেকটা নীরব পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু বন্ধ থাকায় পুরো পর্যটনকেন্দ্রের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্যও অনেকটা কমে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে দুটি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মাঝখানে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মাণ করা হয় রাঙামাটির বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু। পরবর্তী সময়ে সেতুটি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় চার দশক ধরে সেতুটি রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক ঝুলন্ত সেতু দেখতে রাঙামাটিতে আসেন। পর্যটন মৌসুমে কোনো কোনো দিনে সেতুটিতে ৫০০ থেকে ২ হাজার পর্যন্ত পর্যটকের সমাগম হয়। পর্যটকদের এই উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পর্যটন কমপ্লেক্সসহ আশপাশের এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যবসারও প্রসার ঘটে। একই সঙ্গে পর্যটন খাত থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্বও আসে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুলন্ত সেতুটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে সেতুটির পাটাতনের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দুই দফায় সেতুটি পানিতে ডুবে যাওয়ার পর বর্তমানে পাটাতনের একটি অংশ এখনো পানির নিচে রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাটাতন পানির নিচে থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সেতুটিতে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি কমে সেতুর পাটাতন সম্পূর্ণ দৃশ্যমান ও চলাচলের উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

এদিকে ঝুলন্ত সেতু বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সেতুটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে পর্যটকের সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে। এতে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটকবাহী যানবাহন, নৌযান এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কয়েক দিন পর পর্যটন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় আয়োজনের প্রস্তুতি চললেও রাঙামাটি শহরের পর্যটন কমপ্লেক্সে এবার বড় কোনো আয়োজন থাকছে না। পর্যটন দিবসের মূল আয়োজন করা হবে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের সাজেক ভ্যালিতে। ইতোমধ্যে সেখানে নানা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

রাঙামাটি পর্যটন ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, পুরোনো ঝুলন্ত সেতুর পরিবর্তে নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ হলে রাঙামাটির পর্যটন খাতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে। পাশাপাশি আধুনিক ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে উঠলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।