সারাবিশ্ব

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়িতে বন্দুক হামলা, গর্ভবতী নারীসহ নিহত ১১


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়িতে বন্দুক হামলা, গর্ভবতী নারীসহ নিহত ১১
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের কাছে একটি আবাসিক ভবনে বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলায় এক গর্ভবতী নারীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কোয়ামাখুথা টাউনশিপের একটি বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই বন্দুক হামলায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই বাড়িতে একটি ঘরোয়া পার্টিতে অংশ নিতে ১৪ জন মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। একপর্যায়ে বন্দুকধারীরা সেখানে ঢুকে উপস্থিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। ফলে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ জনে।

স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইএনসিএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বাড়ির ভেতরে থাকা লোকজনকে একটি কক্ষে জড়ো করে তাদের ওপর গুলি চালায়। হামলার পর তারা ভুক্তভোগীদের একজনের গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে হামলার উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল এবং তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হামলার সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।

ঘটনার পর স্থানীয় এক বাসিন্দা ইএনসিএ-কে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহতদের কয়েকজন তার ছোটবেলার পরিচিত ছিলেন। এমন ভয়াবহ ঘটনা তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না। তার ভাষায়, পুরো ঘটনাটি যেন কোনো সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরেই সহিংস অপরাধ ও বন্দুক হামলা বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হারও বিশ্বের তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে। প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন হত্যার শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের মার্চে দেশটির সহিংসতাপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় পুলিশের পাশাপাশি সেনা মোতায়েন করা হয়। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সহিংস অপরাধকে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সর্বশেষ এই বন্দুক হামলার ঘটনায় আবারও দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সহিংস অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার পেছনে কারা রয়েছে বা কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।