সারাবিশ্ব

সাংবিধানিক সংশোধনীতে স্বাক্ষর, পদত্যাগে সম্মত হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম

সাংবিধানিক সংশোধনীতে স্বাক্ষর, পদত্যাগে সম্মত হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট
ছবিঃ সংগৃহীত

হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিওক পার্লামেন্টে পাস হওয়া সাংবিধানিক সংশোধনীতে স্বাক্ষর করে পদত্যাগে সম্মতি দিয়েছেন। 

এর ফলে রবিবার (১৯ জুলাই) মধ্যরাত থেকে তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।

প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগইয়ার নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টি পার্লামেন্টে দ্রুত সংশোধনীটি পাস করে। দলটির দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুলিওক প্রেসিডেন্ট পদে থেকে আগের সরকারের প্রভাব বজায় রাখছিলেন। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর অরবানের সরকার পরাজিত হয়।

হাঙ্গেরির সংবিধান অনুযায়ী, সংশোধনীতে স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্টের হাতে পাঁচ দিন সময় ছিল। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই শনিবার সন্ধ্যায় সুলিওক এতে স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার আইনের শাসন লঙ্ঘন করেছে।

সুলিওক বলেন, এই সংশোধনী হাঙ্গেরির সাংবিধানিক গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তার দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বার্থে একটি মুক্ত সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিসা সরকার সুলিওকের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। নতুন সরকার ইতোমধ্যে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই সাংবিধানিক সংশোধনীকে ‘স্বৈরাচারী পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন।

এপ্রিলের নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর অরবানের দল ফিদেস রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অরবান নিজেও দীর্ঘদিন জনসমক্ষে খুব কম দেখা দিয়েছেন এবং পার্লামেন্টে নিজের আসনও গ্রহণ করেননি।

২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা ফিদেস সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার পার্লামেন্টে সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হওয়ার পর তিসা পার্টির ১৪১ জন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

এদিকে, হাঙ্গেরির সাবেক সুপ্রিম কোর্টের প্রধান আন্দ্রাস বাকা বিবিসিকে বলেন, প্রেসিডেন্টকে অপসারণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত। তার ভাষায়, ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হাঙ্গেরিতে আইনের শাসন কার্যকর ছিল। তবে এরপর ফিদেস ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি কর্তৃত্ববাদী কাঠামো গড়ে তোলে।

বাকা আরও বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও টিকে থাকার জন্য যে সুসংগঠিত কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, সেটি ভেঙে ফেলা এখন অত্যন্ত কঠিন।

সূত্র: বিবিসি