সারাবিশ্ব
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক, আজ থেকেই কার্যকর
বাধ্যতামূলক শ্রমবিরোধী আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ঘাটতির অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হচ্ছে। নতুন নীতির আওতায় দেশভেদে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টার-এ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এ নীতির ফলে দেশটির মোট আমদানিকৃত পণ্যের প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ সরাসরি প্রভাবিত হবে। একটি অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, কম্বোডিয়া ও গুয়াতেমালাসহ যেসব দেশ বাধ্যতামূলক শ্রম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন বা নীতিগত অঙ্গীকার করেছে, তাদের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রায় ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
তবে ইতোমধ্যে ট্রানজিটে থাকা পণ্য আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে। এছাড়া তেল-গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা জরুরি জাতীয় আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। পরে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার শেষ হয়। আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে এবার ৩০১ ধারার আওতায় নতুন শুল্ক কাঠামো চালু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যবিষয়ক আইনজীবী রায়ান মাজেরাস বলেন, এটি মূলত ১০ শতাংশের ভিত্তিশুল্ক বহাল রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রির বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধ এবং এ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। এখন বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোরও একই মানদণ্ড অনুসরণ করার সময় এসেছে।
মার্কিন এ সিদ্ধান্তে নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে একে অন্যায্য বলে অভিহিত করেছে। কানাডা অবশ্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আগ্রহ দেখিয়েছে। এদিকে ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মাউরা হিলি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন শুল্কের ফলে পণ্যের দাম বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে পড়বেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে বাধ্যতামূলক শ্রমের ব্যবহার কমানো এবং মার্কিন শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনসহ বিদেশি উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ এই নতুন শুল্কনীতি।