সারাবিশ্ব

কানাডা থেকে বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, আলবার্টায় ৭৬ শতাংশের সমর্থন ঐক্যের পক্ষে


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

কানাডা থেকে বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, আলবার্টায় ৭৬ শতাংশের সমর্থন ঐক্যের পক্ষে
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার আলবার্টা প্রদেশকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন অধিকাংশ ভোটার। ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোটার আলবার্টাকে কানাডার অংশ হিসেবে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে, প্রায় ২৩ শতাংশ ভোটার প্রদেশটির স্বাধীনতার প্রশ্নে ভবিষ্যতে একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তেলসমৃদ্ধ এই প্রদেশের একাংশের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি, জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাদেশিক অধিকার নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সেই অসন্তোষ থেকেই কানাডা থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিটি বিভিন্ন সময়ে জোরালো হয়েছে। এবারের গণভোটে সেই দাবির পক্ষে ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাবের ওপর ভোটারদের মতামত নেওয়া হয়।

তবে এবারের ভোটে সরাসরি আলবার্টার স্বাধীনতা ঘোষণা কিংবা কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আলবার্টা কানাডার একটি প্রদেশ হিসেবেই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে স্বাধীনতার প্রশ্নে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের জন্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ফলে প্রাথমিক ফলাফলকে স্বাধীনতার প্রশ্নে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ফলাফল প্রকাশের পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জাতীয় ঐক্যের পক্ষে ভোটারদের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথও কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রাদেশিক অধিকার, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিষয়ে আলবার্টার অসন্তোষের বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনায় থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সমর্থকেরা জানিয়েছেন, গণভোটের ফলাফল তাঁদের আন্দোলনের অবসান ঘটাবে না। তাঁদের মতে, আলবার্টার অর্থনৈতিক স্বার্থ, তেল ও গ্যাসসম্পদের ব্যবহার এবং প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিরোধের সমাধান প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, প্রদেশটির জনগণের স্বার্থ রক্ষায় অটোয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত।

আলবার্টা কানাডার অন্যতম প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী অঞ্চল। প্রদেশটির অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাস খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জ্বালানি নীতি, পরিবেশগত বিধিনিষেধ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজস্ব ও ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই স্বাধীনতার পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলো নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

নির্বাচন আলবার্টা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটের ফলাফল ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হচ্ছে এবং প্রাথমিক গণনার ফলাফল যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে। কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন কয়েকটি কেন্দ্রে কার্যক্রম দেরিতে শুরু হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়েছিল, যার প্রভাব ফলাফল প্রকাশের সময়সূচিতে পড়ে।

সব মিলিয়ে, আলবার্টার গণভোটে প্রাথমিক ফলাফল কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে অধিকাংশ ভোটারের অবস্থান তুলে ধরেছে। তবে এই ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতার প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। প্রদেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন নির্ধারণে অর্থনৈতিক স্বার্থ, জ্বালানি নীতি ও প্রাদেশিক অধিকারের বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পর ভোটের চূড়ান্ত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।