সারাবিশ্ব
মিয়ানমারে উলফার চার ঘাঁটিতে ভারতের ড্রোন হামলা, নিহত ৩ শীর্ষ কমান্ডার
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)-র মিয়ানমারে অবস্থিত চারটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
রোববার (১৩ জুলাই) ভোররাতে চালানো এই অভিযানে সংগঠনটির অন্তত তিনজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে উলফা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম দফার ড্রোন হামলায় একজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত ও আরও ১৯ জন আহত হন। এরপর দ্বিতীয় দফার হামলায় আরও দুজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় উলফার একাধিক সদস্য ও আশপাশের বেসামরিক নাগরিকরাও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে উলফা ও মণিপুরভিত্তিক পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-সহ একাধিক বিদ্রোহী সংগঠনের ঘাঁটি রয়েছে। এ অঞ্চলগুলোর অনেক বাসিন্দার সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের জাতিগত, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান, যা বিদ্রোহী তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
হামলার বিষয়ে উলফা জানিয়েছে, মিয়ানমারের গভীর জঙ্গলে অবস্থিত তাদের ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলা হয়েছে। একইসঙ্গে পিএলএ-এর ঘাঁটিতেও হামলার কথা উল্লেখ করেছে তারা।
ভারতের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার কথা অস্বীকার করে গুয়াহাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা কর্নেল এম এস রাওয়াত বলেন, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে এ ধরনের কোনো হামলার তথ্য নেই।’ আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মাও জানান, এ ঘটনায় আসামের পুলিশ বা রাজ্যের ভূখণ্ড ব্যবহৃত হয়নি।
উল্লেখ্য, উলফা ১৯৭৯ সাল থেকে আসামের স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে। যদিও সংগঠনটির একটি অংশ ২০২৩ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে এবং অস্ত্র ত্যাগের ঘোষণা দেয়। তবে আরেকটি অংশ এখনো সশস্ত্র বিদ্রোহে লিপ্ত রয়েছে।
গত কয়েক বছরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী হামলার হার কমলেও এখনো মাঝে মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত তিন দশকে এ অঞ্চলে সহিংসতায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক।