সারাবিশ্ব

পাকিস্তানে ভিক্ষাবৃত্তিতে বছরে ৪২ বিলিয়ন ডলারের “অর্থনীতি”


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম

পাকিস্তানে ভিক্ষাবৃত্তিতে বছরে ৪২ বিলিয়ন ডলারের “অর্থনীতি”
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের নিম্নমধ্যবিত্তের মধ্যে ভিক্ষাবৃত্তি ক্রমেই বড় পেশায় রূপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দ্যা ডন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৩.৮ কোটি মানুষ পেশাদার ভিক্ষুক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন।

গড়ে একজন ভিক্ষুক প্রতিদিন ৮৫০ পাকিস্তানি রুপি আয় করেন, যা পুরো দেশের ভিক্ষুকদের মিলিত দৈনিক আয় প্রায় ৩২ বিলিয়ন রুপি এবং বার্ষিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ১১৭ ট্রিলিয়ন রুপি—মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার।

ডন জানায়, প্রায় চার কোটি মানুষ কোনও উৎপাদনশীল কাজ ছাড়াই এ বিপুল আয় করছেন, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের বিজনেস অ্যান্ড সোসাইটি সেন্টার মনে করে, ভিক্ষাবৃত্তি বাড়ছে কারণ এতে অন্যান্য অদক্ষ শ্রমের চেয়ে বেশি আয় হয়।

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের (AHRC) তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ২.৫% থেকে ১১% জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষা করে। আর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর হিসাবে, দেশের প্রধান শহরগুলিতে প্রায় ১২ লাখ শিশু রাস্তায় ভিক্ষা করে জীবিকা চালায়।

পাকিস্তান সরকার বিদেশে রাস্তায় ভিক্ষা করা দেশবাসীর তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হচ্ছে কারণ বিদেশে ধরা পড়া ৯০ শতাংশ ভিক্ষুকই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। ইরাকি এবং সৌদি রাষ্ট্রদূতরা পাকিস্তান সরকারের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগও করেছেন।

পাকিস্তান সরকার ধর্মীয় তীর্থযাত্রা এবং ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে সৌদি আরব, ইরাক এবং ইরানের মতো দেশে যাওয়া হাজার হাজার ভিক্ষুকের পাসপোর্ট স্থগিত করেছে। 

গত আড়াই বছরে সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ থেকে ৪৪ হাজার ভিক্ষুককে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

গত ১৬ মাসে সৌদি আরব ৫,০৩৩ জন পাকিস্তানি ভিক্ষুককে বিতাড়িত করেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জাতীয় পরিষদে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভিক্ষুকদের বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রী নিজেই সংসদে এটি স্বীকার করে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিরা ইতিমধ্যেই বিশ্বের অনেক দেশকে সমস্যায় ফেলছে। গত কয়েক দশক ধরে পাক ভিক্ষুকরাও উপসাগরীয় দেশগুলিতে অভিবাসনের চেষ্টা করছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা এই পাকিস্তানি নাগরিকদের তাড়িয়ে দিচ্ছে।

অনেক পাকিস্তানি বিভিন্ন ধরণের ভিসায় বিদেশে ভ্রমণ যান। কিন্তু পরে সেখানে ভিক্ষাবৃত্তিই তাঁদের পেশা হয়ে ওঠে। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ চাকরির নাম করে গিয়েছিলেন, যদিও পরে এই ধরনের কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়েন এবং তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়।

পাকিস্তানের যেকোনও অঞ্চলে ভিক্ষুক পাওয়া যেতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শেয়ার করা তথ্য থেকে দেখা যায় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যক্তিরা এই প্রবণতার সঙ্গে জড়িত। যেমন, সিন্ধ প্রদেশ থেকে ২,৭৯৫ জন, পাক পাঞ্জাব থেকে ১,৪৩৭ জন, খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে ১,০০২ জন, বালোচিস্তান থেকে ১২৫ জন এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে ৩৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাদ নেই রাজধানী ইসলামাবাদও। এখানকার ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।