সারাবিশ্ব

পাকিস্তানে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩৫০ ছাড়াল


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫০ এএম

পাকিস্তানে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩৫০ ছাড়াল
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০৭ জন।

এছাড়া গিলগিট-বালতিস্তান এলাকায় ৫ জন এবং কাশ্মীরে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারি সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। এখনও উত্তরাঞ্চলের বহু মানুষ বন্যা ও ভূমিধসের কারণে আটকা পড়েছেন। প্রবল বৃষ্টি ও ধ্বংসস্তূপে রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে দেরি হচ্ছে। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে তৎপর উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে, তবে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৫ জন নিহত হয়েছেন। আল-জাজিরার সংবাদদাতা কামাল হায়দারের বরাতে জানা গেছে, হেলিকপ্টারটি প্রত্যন্ত এলাকায় সহায়তা পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

উত্তরাঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছে পাকিস্তান সরকার। মানসেরা পর্যটন এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অঞ্চলটিতে ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, আগামী কয়েক ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বুন, বাজৌর, সুয়াত, শাংলা, মানসেরা ও বাট্টাগ্রাম জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলোকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মোট বার্ষিক বৃষ্টির প্রায় ৭০–৮০ শতাংশই বর্ষাকালে হয়। বর্ষা কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে বর্ষা মৌসুম।

ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও প্রবল বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা হয়, যেখানে অন্তত ৬০ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।