সারাবিশ্ব
বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা চায় না ভারত : রাজনাথ সিং
বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চায় না ভারত- এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূসকে নিজের বিবৃতির ‘শব্দ চয়নে সতর্ক থাকার’ পরামর্শ দিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ভারতের বেসরকারি সংবাদমাধ্যম নেটওয়ার্ক–১৮ এর শীর্ষ সম্পাদক রাহুল জোশিকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে রাজনাথ সিং এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারের একটি বড় অংশ জুড়েই ছিল সাম্প্রতিক ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন।
রাজনাথ বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো ধরনের উত্তেজনা চাই না। তবে ইউনূস সাহেবের উচিত হবে তাঁর বক্তব্যের শব্দচয়ন নিয়ে সতর্ক থাকা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ভারত সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।”
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনপূর্ণ। সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপে সেই সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ঢাকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফস কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা এবং তুরস্কের পার্লামেন্টের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. ইউনূস। তুর্কি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন তুরস্কের এমপি মেহমেত আকিফ ইলমাজ।
এই সাক্ষাৎ নিয়ে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি তৈরি হয়, কারণ পাকিস্তান ও তুরস্ক- উভয় দেশই বর্তমানে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে তিক্ত সম্পর্কের অবস্থায় রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ দাবি করেছে, ড. ইউনূস তুর্কি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের উপহার দিয়েছেন একটি বই- ‘আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’, যেখানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়কার ছবি, গ্রাফিতি এবং ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটিতে একটি ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, বইটিতে আসাম ‘দখলের পর প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে’- সে সম্পর্কেও কিছু পরিকল্পনার উল্লেখ আছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমটি।
এই বিষয়গুলো নিয়েই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যটি এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।