সারাবিশ্ব
নেপালকে ‘বাংলাদেশের পথে’ যেতে দেওয়া হবে না: সুশীলা কারকি
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি বলেছেন, নেপালকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে যেতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের ওপর রাজনৈতিক দল ও তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান চাপের কঠোর সমালোচনা করেন।
সুশীলা কারকি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেন একটি ‘আকস্মিক ঝড়ের’ মধ্যে কাজ করছে। তার ভাষায়, রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিনিয়ত সরকারের সমালোচনা করছে, কেউ কেউ প্রায় প্রতিদিনই সরকার ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের একটি অংশও প্রতিদিন সরকারকে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “সরকার ছাড়ার অর্থটা আসলে কী?”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পর আবার সরে দাঁড়াতে বলাটা এক ধরনের অপমান। তার মতে, তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিয়ত কটুকথা ও গালিগালাজ শুনতে হচ্ছে সরকারকে।
নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুশীলা কারকি বলেন, “আমরা এখন অনেকটা পেন্ডুলামের মতো অবস্থায় রয়েছি। সব ধরনের বাধা, সমালোচনা ও অপমান সহ্য করেই ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি জানান, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন জেন-জি তরুণ একেকজন একেক ধরনের দাবি নিয়ে সামনে আসছে। ফলে যেখানে যাওয়া হচ্ছে, সেখানেই অশান্ত পরিবেশের মুখে পড়তে হচ্ছে।
নেপালের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, তার প্রশাসন নেপালকে বাংলাদেশের মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চায় না। এ প্রসঙ্গে সুশীলা কারকি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ-নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না। আমরা বাংলাদেশ চাই না।”
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নেপালের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: হেডলাইন নেপাল