সারাবিশ্ব

ব্রেক ফেল করে রানওয়ে ছিটকে বিধ্বস্ত ভারতীয় যুদ্ধবিমান তেজস


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

ব্রেক ফেল করে রানওয়ে ছিটকে বিধ্বস্ত ভারতীয় যুদ্ধবিমান তেজস
ছবি: সংগৃহীত

আবারও দুর্ঘটনার মুখে পড়ল ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান তেজস। সেনাঘাঁটিতে অবতরণের সময় ব্রেক কাজ না করায় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিমানটি। এতে যুদ্ধবিমানটির কাঠামো মারাত্মকভাবে দুমড়ে–মুচড়ে যায়।

তবে দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবু ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় ভারতীয় বিমানবাহিনী কার্যত আরও একটি তেজস যুদ্ধবিমান হারাল বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদসংস্থা পিটিআই–এর বরাতে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট শেষে ঘাঁটিতে ফেরার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অবতরণের সময় যুদ্ধবিমানটির ব্রেক কাজ করছিল না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপদ আঁচ করতে পেরে পাইলট জরুরি ভিত্তিতে দরজা খুলে লাফিয়ে নামেন। এর কিছুক্ষণ পরই রানওয়ে পেরিয়ে দূরে গিয়ে পড়ে তেজস যুদ্ধবিমানটি।

সূত্র জানায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তেজস যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে নতুন করে তৎপর হয় ভারতীয় বিমানবাহিনী। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৩০টি এক আসনবিশিষ্ট তেজস সাময়িকভাবে উড্ডয়ন থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব বিমানে সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত পরীক্ষা–নিরীক্ষা চালানো হবে। বিশেষজ্ঞদের সবুজ সংকেত মিললেই কেবল এগুলো আবার কাজে লাগানো হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হিন্দুস্থান এরোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)-কে বিমানবাহিনীর জন্য ৮৩টি তেজস যুদ্ধবিমান তৈরির অনুমোদন দেয়। এ চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৪৮ হাজার কোটি রুপি। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একই সংস্থাকে আরও ৯৭টি তেজস তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়, যার চুক্তিমূল্য প্রায় ৬২ হাজার কোটি রুপি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমান সরবরাহে বারবার ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে হ্যালের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে জিই এরোস্পেস থেকে ইঞ্জিন সরবরাহে জটিলতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই দুর্ঘটনাসহ এখন পর্যন্ত তেজস যুদ্ধবিমানের তিনটি বড় দুর্ঘটনার তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমটি ঘটে ২০২৪ সালের মার্চে, যখন রাজস্থানের জয়সালমেরের কাছে একটি তেজস ভেঙে পড়ে। সেবারও পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে দুবাই এয়ার শো চলাকালে, যেখানে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার নামান স্যালের। সর্বশেষ ৭ ফেব্রুয়ারির দুর্ঘটনাটি সেই তালিকায় তৃতীয় সংযোজন।

বারবার দুর্ঘটনার ঘটনায় ভারতের উচ্চাভিলাষী তেজস প্রকল্পের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে