সারাবিশ্ব

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভের পর আটক, রাতেই মুক্তি রাহুল-প্রিয়াঙ্কার


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পিএম

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভের পর আটক, রাতেই মুক্তি রাহুল-প্রিয়াঙ্কার
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর আটক হওয়া লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাকে কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে মিছিল বের করেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং দলের শীর্ষ নেতারা। বিক্ষোভকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

মিছিল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি পৌঁছালে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করে। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাত ৯টার দিকে গান্ধী ভাইবোনকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তির পর রাহুল গান্ধী শিক্ষা ব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সমর্থন জানানো সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিক্ষোভ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় মানে দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতি অন্যায়। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।

বিক্ষোভ চলাকালে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে কংগ্রেসের দাবি, সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে আলোচনা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে জিতেন্দ্র সিংয়ের দাবি, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে কংগ্রেস আন্দোলন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছিল। পরে দলটি তাদের দাবির সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টিও যুক্ত করে।

এর আগে সোমবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি