সারাবিশ্ব

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’
ছবি: সংগৃহীত

শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’ দ্রুত চীনের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকি এড়াতে রেল চলাচল আংশিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত হংকং ও গুয়াংডং প্রদেশসহ উপকূলীয় এলাকায় টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘কমলা সতর্কতা’ জারি রেখেছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গুয়াংডং এবং পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ অবস্থায় দুর্যোগের প্রভাব কমাতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গুয়াংডং প্রদেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌযানগুলোকে ঝড়ের ঝুঁকি এড়াতে বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে শনিবার সকালে গুয়াংডংয়ের কিছু ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং প্রদেশটির সব ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া চাওঝৌ শহরের স্কুলগুলোতে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বিরূপ আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে। গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন ‘মায়সাক’-এর প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় ৩৯ জন প্রাণ হারান। পাশাপাশি হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে, যার কারণে বিশ্বজুড়ে ঘন ঘন এবং আরও তীব্র আকারে চরম আবহাওয়ার ঘটনা দেখা দিচ্ছে। তবে চীন সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।