সারাবিশ্ব

পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা, নিহত ৭


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা, নিহত ৭
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে টানা ভারি বর্ষণ ও বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মারা গেছে গবাদিপশুও।

প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রদেশজুড়ে বৃষ্টিজনিত অন্তত ১৪টি দুর্ঘটনার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে ঘরের ছাদ ধসে পড়া, পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়ার ঘটনা।

লাহোরে চারটি পৃথক ছাদধসে এক পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। ঘটনাগুলো ঘটেছে ববি প্লাজা, গাড়ি শাহু রেলওয়ে কলোনি, সাগিয়ান পিন্দ ও কাহনা এলাকায়।

কাসুর জেলার দেপালপুর রোডের আদ্দা ধিং শাহ এলাকায় একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক পুরুষ ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন এক নারী ও দুই শিশুসহ তিনজন। ফয়সালাবাদে একই ধরনের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে গুজরানওয়ালার পাঠান কলোনির কাছে বৃষ্টির পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাহাওয়ালনগরে ছাদধসে তিনজন আহত হন এবং একই এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও একজন আহত হন।

নারোয়াল, সিয়ালকোট, নানকানা সাহিব ও শেখুপুরা জেলাতেও ছাদধসের একাধিক ঘটনায় নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ওকারায় একটি পশুর খামারের ছাউনি ধসে দুইজন আহত হন।

পিডিএমএর মহাপরিচালক উমর আব্বাস জানিয়েছেন, চলমান বর্ষণ সত্ত্বেও এখনো বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি এবং রাভি ও শতদ্রুসহ প্রধান নদীগুলোর পানি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে গুজরানওয়ালা ও রাওয়ালপিন্ডি বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নারোয়াল ও শেখুপুরায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামত করায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় ২২ জনের মৃত্যু এবং ১৮৩ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে টানা বর্ষণ ও নালা উপচে পড়ায় পাঞ্জাবের প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলি জমি, গবাদিপশু ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চেনাব ও রাভি নদীর পানি মাঝারি থেকে উচ্চ বন্যা পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। জরুরি সেবার জন্য রেসকিউ ১১২২ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: ডন