সারাবিশ্ব

পরিবারপ্রতি বছরে ৩টি বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

পরিবারপ্রতি বছরে ৩টি বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুতে পরিবারপ্রতি বছরে তিনটি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের পুরো খরচ সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে নারীদের সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেন তিনি। ‘অন্নপূর্ণি সুপার সিক্স’ প্রকল্পের আওতায় বছরে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডারের অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে। আগামী বছরের পঙ্গল উৎসব থেকে এ সুবিধা চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। এর বাস্তবায়নে বছরে ৪ হাজার কোটি রুপির বেশি ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্ষিক আয় আড়াই লাখ রুপির মধ্যে থাকা পরিবার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পরিবার এবং প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারগুলো এই সুবিধা পাবে। প্রথমে সুবিধাভোগীদের নিজেদের অর্থে সিলিন্ডার কিনতে হবে। পরে কেনার প্রমাণপত্র জমা দিলে সেই অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হবে।

এদিকে নারীদের গণপরিবহণে বিনা ভাড়ায় চলাচলের সুবিধাও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিজয়। আগামী ২ অক্টোবর থেকে নারীরা দ্রুতগামী ও বিলাসবহুল বাসসহ বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে যাতায়াতের সংখ্যার কোনো সীমা থাকবে না।

এ ছাড়া চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণে পরন্দুরে নেওয়া প্রকল্পটি বাতিলের ঘোষণাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও স্থানীয় মানুষের জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ত।

তবে চেন্নাইয়ে নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন বিজয়। কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ক্ষতি কম হয়—এমন বিকল্প স্থান খোঁজার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রান্নার গ্যাসে আর্থিক সহায়তা, নারীদের জন্য গণপরিবহণে বাড়তি সুবিধা এবং কৃষিজমি রক্ষায় বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিল—একসঙ্গে এসব সিদ্ধান্তকে বিজয় সরকারের বড় জনমুখী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার বলছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় কমানোই এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।