সারাবিশ্ব

ভারতে থানার সামনেই মুসলিম ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে পিটিয়ে হত্যা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

ভারতে থানার সামনেই মুসলিম ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজস্থানে থানার সামনেই প্রকাশ্যে এক মুসলিম ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে মাথায় বারবার আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ভয়াবহ এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, দাড়ি ও টুপি দেখেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখছে না।

নিহত ব্যক্তির নাম সাইকুন খান (৪০)। তিনি রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বারোদা মেও এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বারোদা মেও বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন সাইকুন খান। তার সঙ্গে ছিলেন নূর মোহাম্মদ।

পথে একটি ব্যাংকের কাছে নূর মোহাম্মদকে নামিয়ে দেওয়ার পর সাইকুন খান মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। এরপর বারোদা মেও থানার সামনে পৌঁছালে হর্ষ মূর্তিকার নামে এক ব্যক্তি তাকে থামান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইকুন মোটরসাইকেল থেকে নামার পর হর্ষ মূর্তিকার তাকে পাথর দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন।

আক্রমণের পর গুরুতর আহত অবস্থায় সাইকুন খানকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আলওয়ারের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

বারোদা মেও থানার পরিদর্শক রাজকুমার জানান, প্রাথমিক তদন্তে সাইকুন খান ও অভিযুক্ত হর্ষ মূর্তিকারের মধ্যে পূর্বপরিচয় বা কোনো শত্রুতার তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ মনে করছে, অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার মানসিক অবস্থা যাচাই করতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর বারোদা মেও থানার সামনে এবং আলওয়ার জেলা হাসপাতালের বাইরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা থানায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একপর্যায়ে তারা আলওয়ার-ভরতপুর সড়ক অবরোধ করলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

তবে ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক হামলা কি না, তা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে নিহত সাইকুন খানের পরিবারের অভিযোগ, তার দাড়ি ও টুপি দেখে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আলওয়ারের কংগ্রেস বিধায়ক টিকারাম জুল্লিও ঘটনার সমালোচনা করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

পুলিশের তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ, অভিযুক্তের মানসিক অবস্থার ভূমিকা এবং নিহত ব্যক্তিকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না-এসব বিষয় স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।