সারাবিশ্ব

ভেনেজুয়েলার পর আরও যেসব দেশকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

ভেনেজুয়েলার পর আরও যেসব দেশকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর আরও তিনটি দেশকে একই ধরনের পরিণতির হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব দেশ হলো- মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবা। মাদকপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কোনো আপস করা হবে না-এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি এই তিন দেশের ক্ষেত্রেও তৈরি হতে পারে। মাদক সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেও পিছপা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “মাদক সন্ত্রাসের বিষয়ে ভেনেজুয়েলাকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা তারা উপেক্ষা করেছে। তাই মাদক সন্ত্রাসকে রুখতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না।”

এরপরই একই ইস্যুতে মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবাকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, “মাদক সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজনে ওই অঞ্চলে আমেরিকাকে পা রাখতে হলে সেটাও করতে প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে কারও চোখরাঙানি আমরা মানব না।”

এদিকে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন, রাশিয়া ও ইরান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াবে। রাশিয়া ও ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের শাসনামলে মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন ও মাদক চোরাচালান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মেক্সিকো যদি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তাকে এর ফল ভোগ করতে হবে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম পার্ডোর সঙ্গেও ট্রাম্পের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। শুল্কনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেন, মেক্সিকো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। এক সংবাদসংস্থাকে তিনি বলেন, “আমরা ভালো বন্ধু। কিন্তু বাস্তবতা হলো—মেক্সিকোকে সরকার নয়, মাদক চক্র পরিচালনা করছে।”

তবে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ভালো চোখে দেখেননি মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট। শনিবার তিনি এই অভিযানের প্রকাশ্য নিন্দা জানান।

শুধু মেক্সিকো নয়, কলম্বিয়ার ওপরও চাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে পরোক্ষভাবে ‘মাদক সম্রাট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “পেত্রোর কোকেন তৈরির কারখানা আছে। আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি—কলম্বিয়ায় একাধিক মাদক কারখানা রয়েছে, যেখান থেকে আমেরিকায় মাদক পাঠানো হচ্ছে।”

এ সময় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কলম্বিয়া থেকে মাদক পাচার বন্ধ না হলে পেত্রোকেও ‘শিক্ষা’ দেওয়া হবে।

ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র কিউবাকেও সতর্ক করে দিয়েছেন ট্রাম্প। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে ‘ব্যর্থ শাসক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “কিউবার প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে কিউবার মানুষ ব্যর্থ শাসনের ফল ভোগ করছে। কিউবার জনগণকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে হবে।”

ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পর ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক হুমকিতে লাতিন আমেরিকাজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।