আইন আদালত

রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সোহেল রানার বিস্ফোরক দাবি, কে এই ‘ডলার’?


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সোহেল রানার বিস্ফোরক দাবি, কে এই ‘ডলার’?
রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সোহেল রানার বিস্ফোরক দাবি, কে এই ‘ডলার’?। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। আদালতে হাজির হওয়ার সময় তিনি ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে দাবি করেন।

সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সোহেল রানা বলেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ‘ডলার’ নামের একজন ব্যক্তি। তার দাবি, তিনি কেবল মরদেহ টুকরো করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে সোহেল রানা বলেন, তিনি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার জন্য ‘ডলার’ নামের ব্যক্তিই দায়ী এবং তিনি শুধু মরদেহ কাটার কাজ করেছেন। একই সঙ্গে নিজের অপরাধের জন্য শাস্তি গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

সোহেল আরও দাবি করেন, রামিসাকে তার কাছে নিয়ে আসতে পারলে ‘ডলার’ তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। পাশাপাশি মামলার আরেক আসামি ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ দাবি করে তাকে ভুলভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

পরে কারাগারে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যান থেকেও একই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় তিনি দাবি করেন, ‘ডলার’ মিরপুর-১১ এলাকায় বসবাস করেন এবং ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তারই সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তবে সোহেল রানার এই বক্তব্যের পর ‘ডলার’ নামটি আলোচনায় এলেও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এখনো ওই ব্যক্তির পরিচয় বা ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আসামির এমন বক্তব্য বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন, মামলার নথিপত্র এবং আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে নিখোঁজ হওয়ার পর রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও জবানবন্দির উল্লেখ রয়েছে এবং এতে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এদিকে আদালতে সোহেল রানার নতুন দাবি মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ‘ডলার’ নামে উল্লেখিত ব্যক্তির পরিচয় ও সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।