জাতীয়

শাপলা প্রতীকে অনড় এনসিপি, আইনি-রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঘোষণা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৩:২২ পিএম

শাপলা প্রতীকে অনড় এনসিপি, আইনি-রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ পেতে নিজেদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শাপলা প্রতীক না পেলে তারা আইনি ও রাজনৈতিক উভয়ভাবে লড়াই করবে।

রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, “প্রতীক হিসেবে শাপলা ছাড়া আমাদের আর কোনো অপশন নেই। এটি আমাদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত। নির্বাচন কমিশন যদি শাপলা না দেয়, তাহলে আমরা আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই করব।”

এর আগে সকাল ১১টার দিকে ইসির সঙ্গে বৈঠকে বসে এনসিপির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রতীক নিয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের নিবন্ধনের সময় থেকেই শাপলা প্রতীক চেয়ে আসছে। গত ২২ জুন দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধনের আবেদন জমা দেয়, যেখানে শাপলাকে তাদের প্রাথমিক ও প্রধান পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে তার আগেই মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য দলটিও শাপলা প্রতীক দাবি করে। ফলে একাধিক দল একই প্রতীক চাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত জটিল হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ১১৫টি প্রতীক নির্ধারণ করে একটি খসড়া তফসিল তৈরি করে, যেখানে ‘শাপলা’ প্রতীকটি রাখা হয়নি। সেই খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। এনসিপি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, প্রতীক নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের দাবি করা প্রতীকটি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এনসিপি শাপলাকে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ, সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও সংগঠনের দীর্ঘদিনের প্রতীক হিসেবে দেখছে। এ প্রতীক ছাড়া তারা কোনো বিকল্প গ্রহণ করবে না বলেও তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

প্রতীক নিয়ে চলমান এ দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দলগুলোর প্রতীক বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নতুন রাজনৈতিক দলগুলো। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই পরিস্থিতির কী ধরনের সমাধান নিয়ে আসে এবং শাপলা প্রতীক শেষ পর্যন্ত কাকে বরাদ্দ করা হয়।