জাতীয়

সীমান্ত হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় আইনে বিচার চাইলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৬:৫০ পিএম

সীমান্ত হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় আইনে বিচার চাইলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

তিনি বলেছেন, সীমান্তে কেউ আইন ভঙ্গ করলেও তাকে গুলি করে হত্যা করার অধিকার কোনো সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নেই। যারা এমন কাজ করছে, তাদের যেন ভারতের নিজস্ব আইনের আওতায় এনে বিচার করা হয়।

বুধবার (১৬ জুলাই) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠান’ উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী ফটোগ্রাফি ও গ্রাফিতি প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সীমান্ত হত্যার বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন স্পষ্টভাবে বলেন, "সরকার কোনোভাবেই নমনীয় নয়। আমরা এই বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট—আইনভঙ্গ করলেও গুলি করে হত্যার অধিকার নেই। এটি একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়।"

এ সময় ভারতে থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া) করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, "এটা নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। যারা পুশ-ইন হচ্ছেন তারা ভারতের নাগরিক—তাদের অবশ্যই ভারতই ফেরত নেবে। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নাগরিকত্ব যাচাই করে তাদের ফেরত নেবে—এই প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগতে পারে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা ভারতের সঙ্গে আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি—তালিকা দিয়ে নাগরিক চিহ্নিত করা এবং বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন। আমরা বহুবার বলেছি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে তালিকা পাঠাতে হবে, আমরা যাচাই করে আমাদের নাগরিক হলে ফেরত নেব। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা সাম্প্রতিক সময়েও কিছু নাগরিককে ফেরত নিয়েছি।"

তৌহিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ সরকার ভারতকে বারবার অনুরোধ করছে যাতে তারা এই সমঝোতার প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতেও এই নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।