জাতীয়
নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ, বিটিআরসির ৬ কর্মকর্তা ওএসডি
নিয়োগ ও পদোন্নতিতে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ছয়জন কর্মকর্তাকে ‘বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ বা ওএসডি করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে গঠিত তিনটি তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের ২৯৮তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যাদের ওএসডি করা হয়েছে, তারা হলেন- বিটিআরসির মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুণ্ডু, পরিচালক এম এ তালেব হোসেন, পরিচালক আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদ, পরিচালক মো. এয়াকুব আলী ভূঁইয়া, উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং উপপরিচালক বেগম শারমিন সুলতানা। কমিশনের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে আলাদা করে ওএসডি চিঠি প্রদান করা হয়েছে। যদিও তারা এখনও অফিসে যুক্ত রয়েছেন, তবে তাদের স্বাক্ষর করার ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থা বহাল থাকবে যতদিন না তদন্তের ভিত্তিতে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিটিআরসির নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ও কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৯ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায়, তাদের মধ্যে ১৫ জন প্রার্থী বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেননি। এসব নিয়োগকে 'অযোগ্য প্রার্থীদের পক্ষে অনৈতিক সুবিধা' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনেকেই ইতোমধ্যেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে সাবেক কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। তিনি কোনো সরকারি চুক্তি ছাড়াই কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেই সময়ে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। ফলে সরকার এখন বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে, তার কাছ থেকে সেই অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুণ্ডু কমিশন সভার নির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন না করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটিয়েছেন। পরিচালক এম এ তালেব হোসেন চাকরির নিয়মিত মেয়াদ পূরণ না করেই পদোন্নতি পান, আর তিনি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে, পরিচালক আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদ মাত্র এক বছর ২২ দিনের চাকরির অভিজ্ঞতায় পদোন্নতি পান, আর এয়াকুব আলী ভূঁইয়া মাত্র ছয় মাসের মাথায়ই উপপরিচালক থেকে পরিচালক হন।
এছাড়া উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। বেগম শারমিন সুলতানা বয়স ও যোগ্যতার শর্ত না মানা সত্ত্বেও সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতিও লাভ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বিটিআরসির যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলব করা হবে।