জাতীয়

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতে এসে তোপের মুখে ডা. সাবরিনা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২০ পিএম

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতে এসে তোপের মুখে ডা. সাবরিনা
তোপের মুখে ডা. সাবরিনা। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন বিতর্কিত চিকিৎসক ডা. সাবরিনা। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ডা. সাবরিনা সমাধিতে ফুল দিতে গেলে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তার উপস্থিতির বিরোধিতা করেন এবং তাকে ঘিরে স্লোগান দেন। এ সময় তাকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে কটাক্ষ করা হয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ডা. সাবরিনা দ্রুত একটি প্রাইভেট কারে করে স্থান ত্যাগ করেন।

এর আগেই, গত ২৫ আগস্ট ডা. সাবরিনার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘করোনার সার্টিফিকেট জালিয়াতির মামলায় দণ্ডিত একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে যান? তাকে যারা সেখানে নিয়ে গেছেন, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, ডা. সাবরিনা ২০২০ সালে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত থাকাকালে ‘জেকেজি হেলথ কেয়ার’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপারসনের পরিচয়ে ভুয়া করোনা সনদ বিতরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, জেকেজি প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভুয়া করোনা রিপোর্ট তৈরি করে বিতরণ করে এবং প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগও উঠে আসে।

এছাড়া ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রাখার অভিযোগও। একটি এনআইডিতে তার জন্মতারিখ ১৯৭৮ সাল, অন্যটিতে ১৯৮৩ সাল দেখানো হয়েছে। ভিন্ন দুই এনআইডিতে স্বামীর নামও ভিন্ন একটিতে আর এইচ হক, অন্যটিতে আরিফুল চৌধুরী।

২০২০ সালে এসব অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে ডা. সাবরিনা বিএনপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেও তার অতীত কর্মকাণ্ড ও পরিচিতি ঘিরে সংগঠনের ভেতরে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, তার বিরুদ্ধে থাকা নানা দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার রাজনৈতিক উপস্থিতিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না। শনিবারের ঘটনাও সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।