জাতীয়
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজ রেলপথ: উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতে সময় বাঁচবে ৪ ঘণ্টা
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে উত্তরাঞ্চলের মানুষের। আবারও শুরু হচ্ছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে নতুন গতি এসেছে।
রেলপথটি চালু হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে সময় কমবে প্রায় চার ঘণ্টা। দূরত্বও কমবে ১১৫ কিলোমিটার। এতে যাত্রী ও মালবাহী রেল চলাচল সহজ হবে, বাড়বে কৃষি ও শিল্পপণ্যের পরিবহনগত গতি।
২০১৮ সালে সিরাজগঞ্জবাসীর দাবির মুখে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় রেল মন্ত্রণালয়। পুরোনো রুট বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন পথ ধরে নির্মিত হবে ডুয়েল গেজ রেলপথটি। এ জন্য বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ দুই জেলায় প্রায় ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে বগুড়ায় ৫২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৫১০ একর এবং সিরাজগঞ্জে ৩২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৪২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ অংশের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন পেয়েছে ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ। প্রশাসন জানায়, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সোজা ও দ্রুত হবে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এতে শুধু যাতায়াত নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু গণমাধ্যমকে বলেন, রেল যোগাযোগের এই প্রকল্প দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এটি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য নব কুমার কর্মকার জানান, পুরো প্রকল্পের আওতায় বগুড়ায় চারটি ও সিরাজগঞ্জে পাঁচটি নতুন স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ার রানীরহাট ও সিরাজগঞ্জ সদরে দুটি নতুন জংশন স্টেশনও গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের জংশনটি যেন শহরের রায়পুর এলাকায় হয়, তা গুরুত্ব বিবেচনায় দেখতে হবে।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অর্থছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে শুরু করেছে প্রশাসন। তিনি জানান, পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
উত্তরাঞ্চলের মানুষ আশা করছেন, এই রেলপথ চালু হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, গোটা অঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষি ও কর্মসংস্থানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।