জাতীয়

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে আজই


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৮ এএম

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে আজই
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও বহুল আলোচিত গণভোট নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারই আজ (বৃহস্পতিবার) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আজ সকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে উপদেষ্টা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে আলোচ্যসূচির অন্যতম বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট আয়োজন। বৈঠক শেষে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্র।

রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। তার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, ভাষণটি বিটিভি, বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভাষণের মূল বিষয়বস্তু প্রকাশ না করা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট আয়োজন সম্পর্কে সরকারের সিদ্ধান্তগুলো জাতির সামনে তুলে ধরবেন।

সূত্রমতে, সরকার সব দলকে সন্তুষ্ট রাখতে একটি সমঝোতামূলক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—

বিএনপির দাবির সঙ্গে মিল রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, জামায়াতের প্রস্তাব অনুযায়ী আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রাখা হবে এবং এনসিপির শর্ত অনুযায়ী নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি হতে পারে।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছিল এবং এজন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যেও বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সরকারই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এর আগেই জানিয়েছিলেন, “গণভোট কখন হবে এবং জুলাই সনদের ভিন্নমতগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে-এসব বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।”

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও গত সোমবার বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং এখন সরকারের পক্ষ থেকেই একটি সিদ্ধান্ত আসবে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সরকারের আজকের বৈঠক থেকেই নির্ধারিত হতে পারে-গণভোট নির্বাচনের আগে হবে, নাকি নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, বুধবার জামায়াতে ইসলামীসহ ৮টি রাজনৈতিক দল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, তার ওপর গণভোট আয়োজন এবং সাংবিধানিক সংস্কারের সময়সূচি ঘোষণা।”

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও উত্তেজনার মধ্যেই আজকের দিনটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো দিন। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণেই জানা যাবে-জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ভবিষ্যৎ পথ কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।