জাতীয়
মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
সোমবার (১৭ নভেম্বর) মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হলো। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার মাজার প্রাঙ্গণে ভোর থেকেই ঢল নামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তার পরিবার, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে।
মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত, অনুসারী ও মুরিদরা ‘যুগ যুগ জিও তুমি, মওলানা ভাসানী’ স্লোগানে ক্ষণে ক্ষণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এদিকে, মাজার এলাকায় সপ্তাহব্যাপী মেলা বসেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন আলোচনা সভা, সেমিনারসহ শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
তবে সংরক্ষণ ও যত্নের অভাবে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিচিহ্নগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, তার চিন্তা ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব। নতুন সরকারের কাছে তারা দাবি করেছেন, মাওলানাকে যথাযথ সম্মান প্রদানের পাশাপাশি তার চেতনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বিগত সরকারের দায়িত্বহীনতার কারণে তার হাতে গড়া অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা দাবি করেছেন, যমুনা সেতু এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ভাসানীর নামে নামকরণ করা হোক। সচেতন মহলও মাওলানার মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানিয়েছেন।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এবং পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে সমাহিত হন। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করা ভাসানী কৈশোর থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এবং সারাজীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংগ্রাম করেছেন।
মাওলানার নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালে কাগমারীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সম্মেলন রাজনীতির নতুন মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তার সর্বশেষ উদ্যোগ ছিল ফারাক্কা লং মার্চ।
মাওলানা ভাসানীর হাতে থাকা বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, যেমন ১৯৬৭ সালে চীনের প্রধানমন্ত্রী থেকে উপহার পাওয়া ট্রাক্টর, টাইপিং মেশিন, লাঠি, ট্রানজিস্টার ও আলোকচিত্র সংরক্ষণের চেষ্টা করা হলেও অনেকগুলো ধুলাবালুর আচ্ছাদনে নষ্ট হওয়ার পথে।
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বলেন, “ভাসানীর আদর্শ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পৌঁছে দিতে পাঠ্যবইয়ে ভাসানী স্টাডিজ পড়ানো হয়। তার স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের পাশাপাশি আলোচনা সভা, সেমিনার ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। সততা, ন্যায় ও সংগ্রামী চেতনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম সেই দেশ উপহার দেবে যা ভাসানী স্বপ্ন দেখেছিলেন।”