জাতীয়

ভারতের অনুমতি না মেলায় বুড়িমারী বন্দরে আটকে ভুটানগামী ট্রানশিপমেন্ট পণ্য


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৪ এএম

ভারতের অনুমতি না মেলায় বুড়িমারী বন্দরে আটকে ভুটানগামী ট্রানশিপমেন্ট পণ্য
ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান ভারতের সড়কপথে প্রবেশ করতে না পারায় বন্দরের ইয়ার্ডে আটকে রয়েছে। ভুটানে সড়কপথে ট্রানশিপমেন্ট পণ্য পাঠাতে প্রয়োজনীয় অনুমতি এখনও মেলেনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। ফলে থাইল্যান্ড থেকে সমুদ্রপথে আনা প্রথম চালানটি ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ‘আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড’ ৮ সেপ্টেম্বর ভুটানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আবিত ট্রেডিংয়ের জন্য ছয় ধরনের পণ্য- ফল, জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু স্বাদের ক্যান্ডি ও শ্যাম্পু-কনটেইনারে পাঠায়। থাইল্যান্ডের ল্যাম চ্যাবাং বন্দর থেকে ছাড়ানো এসব পণ্য ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছে।

বাংলাদেশ–ভুটানের মধ্যে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ স্বাক্ষরিত প্রটোকল চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সড়কপথ এবং ভারতের সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে দুটি পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রথম কনটেইনারটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এনএম ট্রেডিং করপোরেশন ২৮ নভেম্বর বিকেল ৪টায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে নিয়ে আসে।

পরবর্তী দুই দিন- ২৮ ও ২৯ নভেম্বর-সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনকো লিমিটেড ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে কনটেইনারটি প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় তাতে সফল হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বাংলাদেশ থেকে ভারতের সড়কপথ হয়ে ভুটানে পণ্য পৌঁছাতে যে অনুমোদন দরকার, চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ তা এখনও পায়নি।

বেনকো লিমিটেডের প্রোপাইটর ফারুক হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে আনা ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালানটি এখনও বুড়িমারী বন্দরে অবস্থান করছে। ভারতীয় অনুমতি না থাকায় এটি পাঠানো যাচ্ছে না। অনুমতি পাওয়া মাত্রই চালানটি ভুটানের উদ্দেশে রওনা হবে।”

বুড়িমারী বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান জানান, “শনিবার থেকে কনটেইনারটি বন্দরের মাঠে রাখা হয়েছে।”

বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার (এসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ভুটানের চালানের জন্য সকল ধরনের কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ভারতীয় কাস্টমস থেকে অনুমতি পেলেই আমরা পণ্য ভুটানে পাঠাতে পারব।”

চালানটি দ্রুত গন্তব্যে পাঠাতে দুই দেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।